শুক্রবার | অক্টোবর ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ চাঁদপুরে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল পাচারের সময় জব্দ করেছে প্রশাসন-তদন্ত কমিটি গঠন

চাঁদপুরে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল পাচারের সময় জব্দ করেছে প্রশাসন-তদন্ত কমিটি গঠন

চাঁদপুর থেকে এ কে আজাদ : মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা খাদ্যসহায়তার চাল বিতরণ না করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে। এ ঘটনায় ৪ হাজার ৯৩০ কেজি (প্রায় ৪.৯৩ টন) চাল জব্দ করেছে প্রশাসন। অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ বাজার এলাকা থেকে চালগুলো জব্দ করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্যসহায়তা হিসেবে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। এর আওতায় চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের ৪ হাজার ৯৭০ জন জেলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১১ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন চাল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই চাল বিতরণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান।

জব্দ করা চাল পরিবহনের দায়িত্বে থাকা পিকআপচালক শাহাদাত জানান, চাঁদপুরের সিএসডি গোডাউন থেকে চাল নিয়ে তিনি কুমিল্লার লাকসামে যাচ্ছিলেন। এ জন্য তাঁকে পরিবহনভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তবে চালের মালিকের নাম জানানো হয়নি। লাকসামে পৌঁছানোর পর মালিকের পরিচয় জানানো হবে বলে তাঁকে বলা হয়েছিল। পথে হাজীগঞ্জ এলাকায় পৌঁছানোর পর চালগুলো ফেরত নিয়ে আসার জন্য ফোন পান। পরে তিনি চাল নিয়ে চাঁদপুরে ফিরে আসেন।

চাল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত টোকেনে ৪ হাজার ৯৩০ কেজি চালের পরিমাণ উল্লেখ থাকলেও সেখানে মালিকের নাম ছিল না বলে জানান ওই চালক।

এদিকে চাল বিক্রির অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমের ব্যক্তিগত মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযানের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম বলেন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি তথ্য পান যে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল জেলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে চালের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। পরে বিপণীবাগ বাজার এলাকা থেকে চালগুলো জব্দ করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন, জব্দ করা চাল লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল নির্ধারিত সময়ে বিতরণ না হওয়া এবং সেখান থেকে প্রায় পাঁচ টন চাল অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা