নূর আলম ভূইয়া: রাজধানীর সাথে নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ চনপারার সাথে সংযোগ স্থাপন কারী ১৯৯১ সালে নির্মিত ডেমরার বালু নদীর উপর সেতুটি ক্রমেই সাধারণ মরণ ফাদে পরিনত হয়েছে। এ সেতু পাড়ি দিয়ে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় পড়–য়া শিক্ষার্থীরা উন্নত পড়াশোনার জন্য রাজধানীর নামিদামি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষের জরুরী প্রয়োজনে ঢাকায় যাতায়াত করার একমাত্র সেতু এটি। ঢাকা থেকে ডেমরা হয়ে রূপগঞ্জের চনপাড়া থেকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ যাতায়াতের একমাত্র সেতু টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে হাজার হাজার পণ্য এবং যাত্রী পরিবহন চলাচল করছে প্রতিদিন। বর্তমানে এটি একটি ব্যস্ততম সেতুতে পরিনত হয়েছে। যে কোনো সময়ে এ সেতুটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে প্রান হানি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ডেমরার বালু নদীর উপর নির্মিত এ সরু সেতু দিয়ে ট্রাক, মিনিবাস, মালবাহী পিকআপ, সিএনজি, টেম্পু সহ বিভিন্ন ধরনের মালবাহী এবং গণপরিবহন অবাধে চলাচল করছে। সেতুটির বিভিন্ন পিলারে ফাটল ধরেছে এবং কিছু কিছু পিলারের পলিয়েস্টার খসে পড়ে সেতুর ভিতরের লোহা বেরিয়ে এসেছে এবং বেকিয়ে গিয়েছে। এ ছাড়া এ সেতুর নিচ দিয়ে বিভিন্ন নৌযানের পাশাপাশি শত শত বালুবাহী বাল্কহেড প্রতিযোগিতা মূলক ভাবে চলাচল করার কারণে ্ও বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতুতে কয়টি পিলার ভেঙ্গে গিয়েছে আরো দেখা গিয়েছে সেতুর দুই পাশের রেলিং ভেঙ্গে পড়েছে এছাড়া সেতুর মূল স্লাভের কয়েক জায়গায় ফাটল ধরার কারন রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন থেকে মালবাহী গাড়ি চলাচলে কয়েক বার লোহার এঙ্গেল দিয়ে উচ্চতা নির্ধারণ করার পরেও এসব কিছুতেই মানা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে এ সেতুর পাশের বাড়ি ওয়ালা আব্দুল আউয়াল বলেন, অনেক আগে এ সেতুটি নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে এর চাহিদা অনেক বেশী বেড়ে গিয়েছে। এ ছাড়া প্রায় সময়ই রাতের বেলায় সেতুর পিলারের সাথে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় বিকট শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যায় এসব বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতুর পিরার ব্যাপক ভাবে ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কিছু পিলার ভেঙ্গে গিয়েছে। অতি দ্রুত এ সেতুটি নতুন করে নির্মাণ না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে রুপগঞ্জ কায়েত পাড়া ইউনিয়নের ভাড়প্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো.মোয়াজ্জেম হোসেন কালবেলা কে বলেন এ সেতুটি আমাদের রুপগঞ্জের সাথে ডেমরা হয়ে রাজধানীর সাথে যোগাযোগের একমাত্র সহজ মাধ্যমে সেতু দিয়ে আমরা ৪০ মিনিটের মধ্যে ঢাকায় পৌছতে পারি। কিন্তু বর্তমানে এটি শুধু ঝুঁকিপূর্ণ না এটি একটি মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। এলাকাবাসী এ সেতু পারাপারের সময় আতঙ্কে থাকে। খুব শীঘ্রই এখানে একটি নতুন সে নির্মানের দাবী এলাকাবাসীর এ বিষয়ে এলাকাবাসী এবং স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র—ছাত্রীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বেশ কয়েকবার।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি, নারায়নগঞ্জ আক্তার হোসেন কালবেলা কে বলেন, বালু নদীর ওপর নির্মিত এ সেতুটির অবস্থা আসলে অত্যন্ত খারাব। ভারী যান চলাচলের ব্যাপারে স্থানীয় সকলের সাথে সমন্বয় ও আলোচনা করে আমরা কিছু ব্যবস্থা নিয়েছি এবং এ বিষয়টি আমাদের ডিপার্টমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি রয়েছেন তাদের সাথে আলোচনা করে অতি গুরুত্বপূর্ন এ সেতুটি নতুন ভাবে নির্মান করে রাজধানীর সাথে যোগাযোগ সম্পিক্ত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।