এস,এম সিপার, পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার হাসপাতাল রোডে ধান হাটার পাশে বেসরকারি টপটেন জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক নবজাতক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম প্রসূতি অবস্থায় টপটেন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। পরিবারের দাবি, জন্মের পর শিশুটি সুস্থ ছিল। তবে জন্মের দুইদিন পর হাসপাতালের ভুল চিকিৎসার কারণে শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটে। গত (১৮ মে) শিশুটির মৃত্যু হয় কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যু সার্টিফিকেট না দেওয়ায় এবং মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। রোগীর স্বজনরা সাংবাদিকদের জানালে আজ ঘটনাটি সকলের সামনে আসে।
ফেরদৌসের মা জানান, গর্ভাবস্থায় তার মেয়ে ফেরদৌসীকে মঠবাড়িয়ার টপটেন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্তান জন্মের পর নবজাতকটি সুস্থই ছিল বলে পরিবারের দাবি। তবে জন্মের দুদিন পর শিশুটির নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের একজন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেয়। আমরা ডাঃ আশীষ দেবনাথ লিজনের কাছে নিলে তিনি জানান শিশুটির অবস্থা খুবই খারাপ তাকে ইমারজেন্সি বিভাগে নিয়ে যান।
টপটেন জেনারেল হাসপাতালের মালিক সাকিব সোহেল জানান, তাদের হাসপাতালে ফেরদৌসীর সিজার সম্পন্ন হয় এবং জন্মের পর নবজাতকটি সুস্থ ছিল। তবে হঠাৎ করে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়। পরে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার সময় সেখানেই শিশুটির মৃত্যু হয় বলে তিনি দাবি করেন।
ডাক্তার আশীষ দেবনাথ লিজন জানান, তিনি তার চেম্বারে রোগী দেখার সময় নবজাতক শিশুটিকে তার কাছে নিয়ে আসা হয়। তবে শিশুটিকে তার কাছে আনার আগেই তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। শিশুটির মুখ ও নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল। পরিস্থিতি গুরুতর দেখে তিনি দ্রুত শিশুটিকে জরুরি বিভাগে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সৌমিত্র সিনহা রায় জানান, বিষয়টি জানার পরপরই তিনি এবং উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডাঃ চঞ্চল গোলদারের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাকিল সরোয়ার জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।