কিশোরগঞ্জে ভূমি সেবা মেলায় সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তির অভিযোগ

প্রকাশিতঃ মে ২০, ২০২৬, ১০:৪৯

মোঃ মিজানুর রহমান
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলায় সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন একাধিক সেবাপ্রার্থী। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকাল ৩টার দিকে ভূমিসেবা মেলায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত মেলায় মোট পাঁচটি স্টল বসানো হয়েছে। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ২০ জন সেবা নিয়েছেন, যেখানে দায়িত্ব পালন করছেন ৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। রেকর্ড রুমে একজন সেবাগ্রহীতার বিপরীতে দায়িত্বে রয়েছেন ২ জন। ভূমি সেবা বুথে ৩৮ জন সেবা নিতে এলেও সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন ৫ জন। মৃত্তিকা এন্টারপ্রাইজে ৭ জন সেবা নিয়েছেন, সেবা দিচ্ছেন ৬ জন। এছাড়া ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্রে ২২ জন সেবা নিয়েছেন, সেখানে দায়িত্বে রয়েছেন ৮ জন।

কিশোরগঞ্জ সদর থেকে আসা সাফিনা আক্তার বলেন, ‘তিন সপ্তাহ ধরে একটি সইয়ের জন্য ঘুরছি। কিন্তু এখনো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাচ্ছি না। প্রতিদিনই বলা হচ্ছে, ‘আসবেন, আসছেন’, কিন্তু তিনি অফিসে আসেন না, সইও দেন না। আজও দুপুর ১২টা থেকে এখন ৩টা পর্যন্ত বসে আছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। মেলার আয়োজন করা হয়েছে বলে বলা হয়েছিল দ্রুত সেবা পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা শুধু বসে আছি। এখানে ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেই, এক গ্লাস পানিও পাওয়া যায় না।’

জেলা শহরের নীলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আসমা বেগম বলেন, ‘একটা কাগজের জন্য সকাল ১১টা থেকে এসে বসে আছি। বলা হয়েছিল আধ ঘণ্টার মধ্যে কাজ হবে, কিন্তু সেই আধা ঘণ্টা পেরিয়ে এখন ৩টা বাজে, তবুও কোনো সেবা পাইনি। আমি অসুস্থ মানুষ, দুইটি অপারেশন হয়েছে। শারীরিকভাবে খুব কষ্ট নিয়ে এখানে বসে থাকতে হচ্ছে। অথচ মাইকে শুধু সেবার কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। পানি খাওয়ার ব্যবস্থাও নেই।’

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দচত এলাকার মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, ‘গতকাল এসি ল্যান্ড অফিসে এসে দুপুর ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি, কিন্তু স্যার আসেননি। আজ আবার দোকান বন্ধ করে দুপুর ১২টায় এসেছি। কিছুক্ষণ শুনানি চলার পর বলা হলো, স্যারের আধা ঘণ্টার মিটিং আছে। কিন্তু সেই আধা ঘণ্টা পেরিয়ে অনেক সময় হয়ে গেছে, আমরা এখনও অপেক্ষা করছি। তাহলে এটাকে সেবা বলা হচ্ছে কীভাবে।’

নতুন জেলকানা মোড় এলাকার সেবাগ্রহীতা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘আমি খারিজের জন্য আবেদন করেছি। এখন টিএনও স্যারের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় আছি। সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বসে রয়েছি। প্রথমে ভূমি অফিসে গিয়েছিলাম, পরে ডিসির অফিসের মেলায় পাঠানো হয়। এখানে এসে দেখি অসংখ্য মানুষ অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সকাল থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বসে থেকেও কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছি না, কখন কাজ হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলৈ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান মেলায় এসে সেবাপ্রার্থী সবার খোঁজখবর নেন ও সবাইকে সেবা পাওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার আজ উদ্বোধন করা হয়েছে।

যারা সেবা নিতে এসেছেন, তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। যেসব সেবা তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া সম্ভব, সেগুলো সঙ্গে সঙ্গেই দেওয়া হচ্ছে। আর যেসব বিষয়ে সময় লাগবে, সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

নাহিদ হাসান আরও বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মেলায় একটি ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এখানে নামজারি আবেদন, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ানের আবেদনসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হচ্ছে। রেকর্ড রুমের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত আছেন।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ভূমি সংক্রান্ত অনেক সমস্যাই দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল। আমরা দ্রুত মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। বর্তমানে এসি ল্যান্ড অফিস ও মেলা- দুই জায়গাতেই একসঙ্গে কার্যক্রম চলছে। যেসব নথিতে ইউএনওর স্বাক্ষর প্রয়োজন, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’