পিরোজপুর প্রতিনিধি: অগণিত মানুষকে কাঁদিয়ে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার সর্বজন শ্রদ্ধেয় মরহুম ফায়জুল কবির তালুকদার (৫৮)-এর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি ছিলেন
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। জিনানগর বিএনপির দুঃসময়ের এই নেতা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিআরডিবির বর্তমান চেয়ারম্যান।
আজ (২৩ মে) শনিবার ভোর ৪:৩০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা সিটি মেডিকেল হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। একই দিন বিকেল ৫:৩০টায় (আছরবাদ) জিয়ানগর মেহেউদ্দিন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে খুলনা সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি লিভার, কিডনি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।
জনাব ফায়জুল কবির তালুকদার জিয়ানগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তালুকদার পরিবারের সন্তান। অত্র উপজেলার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তথা মেহেউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সেতার স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, এফ. করিম আলিম মাদ্রাসা, জিয়ানগর ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ উপজেলা পরিষদ, হাসপাতাল, স্বাস্থ্য ক্লিনিক, থানা ভবন, জিয়ানগর বাজারসহ আরও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জমিদাতা হিসেবেও তার পরিবারের অবদান রয়েছে।
তার পিতা দীর্ঘদিন ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। বড় ভাই ইকরামুল কবির মজনু একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান, মেজ ভাই আসাদুল কবির তালুকদার স্বপন একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যান এবং তিনি নিজে উপজেলা পরিষদের সফল ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেও আওয়ামী সরকারের রোষানলে পড়ে পরাজিত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। বর্তমানে তার ভাতিজা মাসুদ করিম ইমন সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন, ন্যায়নিষ্ঠ, সৎ ও আদর্শবান ব্যক্তি হিসেবে ফায়জুল কবির তালুকদারের ব্যাপক সুনাম রয়েছে। উপজেলার কোনো মানুষ অসুস্থ হলে বা মারা গেলে তিনি সবার আগে ছুটে যেতেন। তার চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনো মৃত ব্যক্তির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে বলে কারও জানা নেই। তিনি সবসময় মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকতেন। আওয়ামী সরকারের আমলে বহু মিথ্যা মামলা ও জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও তিনি নীতি ও আদর্শ থেকে পিছু হটেননি। তার মৃত্যুতে জিয়ানগরবাসী একজন অভিভাবক হারালেন।
তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তার আত্মার শান্তি ও রুহের মাগফিরাত কামনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।