মাখদুম সামি কল্লোল: আগামী পবিত্র ঈদুল আযহায় মানুষের নৌভ্রমণ নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন বিআইডব্লিউটিসি। রবিবার ২৪ মে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি বিশেষ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান আবুল ইসলাম।
ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফেরিতে যাত্রীদের নিরাপত্তায় ফেরি পারাপারের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে বাস ও অন্যান্য যানবাহন থেকে যাত্রীদের নেমে পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঘাটে ঘাটে মাইকিং করা হবে এবং নির্দেশনামূলক বিলবোর্ড লাগানো হবে।
যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত কোনো যানবাহন যাতে ফেরিতে উঠতে না পারে, সেজন্য ঘাটে ‘কন্ট্রোল গেইট’ বসানো হবে এবং কড়া নজরদারি করা হবে। পাশাপাশি ফেরির পন্টুনের নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও উঁচু ও মজবুত করা হবে।
সদরঘাটে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঢাকার সদরঘাটে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) খোলা হবে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য থাকবে উন্নত সাউন্ড সিস্টেম। এছাড়া টার্মিনালের বাইরে যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
ভাড়া ও যাত্রী পরিবহন মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই বন্ধ করতে মাঠে থাকবে বিশেষ মনিটরিং টিম ও মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত)। প্রতিটি নদীবন্দর ও নৌযানের স্পষ্ট স্থানে সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
সভায় কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঈদযাত্রার দায়িত্বে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। কারো অবহেলা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, নৌ-পুলিশ এবং কোস্টগার্ড একসঙ্গে মিলে কাজ করবে।