শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ পাকুন্দিয়ায় সানি হত্যার বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ

পাকুন্দিয়ায় সানি হত্যার বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জ থেকে মোঃ মিজানুর রহমান : কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আলোচিত সানি হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় পাকুন্দিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন শেষে স্থানীয় গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১১টায় পাকুন্দিয়া প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি মিছিল বের হয়ে পৌর সদর বাজার প্রদক্ষিণ করে পাকুন্দিয়া থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পরে থানার সামনে সানি হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে বিক্ষোভকারীরা।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ শেষে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা চলে যায়।

এর আগে পাকুন্দিয়া প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবার।

এ সময় নিহত সানির স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার, তার দুই শিশুসন্তান তালহা ও তারিফ, নিহতের মামাতো ভাই জসীম উদ্দিন আপেল, চাচা নুরুল ইসলাম, আব্দুল আওয়াল, মাতা পারভীন আক্তারসহ স্থানীয় শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহত সানির স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, তার স্বামীকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের মফিজুল, নজরুল, আজিজুল এবং মকবুলসহ কয়েকজন মিলে সুপরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে হত্যা করে।

পুলিশ প্রথমে এজাহারনামীয় ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও মাত্র একজন আসামি ছাড়া বাকি তিন আসামি জামিনে বের হয়ে যায়। আসামিরা জামিনে বের হয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকি ও নিহতের ছোট ভাইকে হত্যার ভয় দেখিয়ে যাচ্ছে।

তিনি লিখিত অভিযোগে আরও বলেন, আসামিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় ৩০ লাখ টাকায় জমি বিক্রি করে হত্যা মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে; যার বাস্তব প্রমাণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাত্র কয়েক দিনের মাথায় চার আসামির জামিন এবং ১ নম্বর আসামির পরিকল্পিত জবানবন্দিতে আমার মৃত স্বামীর বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকির মতো মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সিসিটিভিতে একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মাত্র একজন আসামির নামে চার্জশিট দেওয়ার মতো নীল নকশা আঁকছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, পূর্বশত্রুতার জের ধরে গত ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাত ৮টার দিকে উপজেলার হিজলিয়া গ্রামের সানি (২২) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। সে উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের হিজলিয়া গ্রামের কাতারপ্রবাসী হাদিউল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ মোট চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও তিনজন আসামি ইতোমধ্যে জামিনে বের হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, জামিনে বের হয়ে বাদীকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি আমি জানতে পেরে জামিন বাতিলের জন্য একটি লিখিত আবেদন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি বাদীকে।

তাছাড়াও মামলার তদন্ত কাজ এখনো শেষ হয়নি। সঠিক তদন্ত শেষে আমরা চার্জশিট জমা দেব। তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আমরা তার স্থলে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেব।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা