শনিবার | অক্টোবর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ বেনাপোলে শুল্ক ফাঁকির মহোৎসবে বড় বাঁধা কমিশনার শরফুদ্দিন

বেনাপোলে শুল্ক ফাঁকির মহোৎসবে বড় বাঁধা কমিশনার শরফুদ্দিন

সুমন হোসাইন, বেনাপোল প্রতিনিধি : দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থল বন্দরে শুল্ক ফাঁকি চক্রের আগ্রাসী ভূমিকায় একের পর এক আমদানি পণ্য চালান অনায়াসে পাচার হওয়ার ঘটনায় কাস্টমস ও বন্দর ব্যবস্থপনা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন ব্যবসায়িক মহল।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নং শেড থেকে উচ্চ শুল্ক মূল্যের দুই ট্রাক শাড়ী,থ্রিপিস ও কসমেটিকস পণ্য চালান শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই বের করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এ ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য দেইনী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এ ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ন কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞার বিরুদ্ধে সহাকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরমানকে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠে। অভিযোগ বিষয়ে জানতে, বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহাকরী রাজস্ব কর্মকর্তা আরমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালালেও সাক্ষাৎ না মেলায় তার বক্তব্য জানা যাইনি।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দুপুর আনুমানিক ১ থেকে ১ টার দিকে বেনাপোল বন্দরের ৪১ নং শেড হতে ঢাকা ট্রান্সপোর্টের ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৭৪৭১ ও আফজাল পার্সেলের ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-০৮৪৭ নাম্বারের দুটি কাভার্ড ভ্যান যোগে মিথ্যা ঘোষণায় আনা আমদানি পণ্য চালান নিয়ে বেরিয়ে যায় শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্রের সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ন কমিশনার শরফুদ্দিনের নেতৃত্বে “তদন্ত, গবেষণা ও ব্যবস্থাপনা ইউনিট” (আইআরএম) টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে দায়িত্ব প্রাপ্ত সহাকরী রাজস্ব কর্মকর্তা আরমানকে অনুপস্থিত থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে তাকে দায়িত্বে না থাকার কারন জিজ্ঞাসাবাদ করলে কোন সদুউর দিতে না পারায় জেসি শরফুদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে আরমানকে থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনাকে পুঁজি করে শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্রের সদস্যরা তাদের অপরাধ ধামাচাপা দিতে জেসি শরফুদ্দিনকে বেনাপোল হতে বদলী করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানা যায়। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে চক্রটি অসাধু মিডিয়া কর্মীদের ভাড়া করে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে প্রকৃত তথ্য গোপণ করে বিভ্রান্তকর সংবাদ প্রকাশ করছে।

সূত্রটির দাবি, গতকাল বেনাপোল বন্দর হতে পণ্য পাচার ঘটনায় কাস্টমস সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরমানসহ বেনাপোল স্থল বন্দরের একাধিক কর্মকর্তা জড়িত যা সংশ্লিষ্ট মহলের সুষ্ঠ তদন্তে বেরিয়ে আসবে। একই সাথে বন্দরের ৪১ নং শেডে মিথ্যা ঘোষণায় আনা কয়েক কোটি টাকার পণ্য চালান জব্দ করেছে। তাছাড়া গত আট মাসে ৪১ নং শেড থেকে মিথ্যা ঘোষনা ও জাল-জালিয়াতির কাগজপত্র দিয়ে কি পরিমাণ শুল্ক ফাঁকির পণ্য চালান বেরিয়ে গেছে তার তদন্ত শুরু করেছ রাষ্টের উচ্চ পার্যায়ের গোয়েন্দা দল।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গত ৮ সেপ্টেম্বর বেনাপোল বন্দরের ২৯ শেড হতে আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকির ৩ ট্রাক পণ্য পাচারের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শহিদুল ও তরিকুল ইসলামকে দায়িত্ব হতে ক্লোজড করে জনপ্রশাসন শাখায় যুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমানের দিক নির্দেশনায় শুল্ক ফাঁকিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেসি শরফুদ্দিন মামলা দায়েরের সিদ্ধান্তসহ স্টেশনটির শুল্ক ফাঁকি রোধে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট রয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়িক মহলের ভাষ্য মতে, শুল্ক ফাঁকি বাজদের কাছে এখন আতঙ্কের নাম জেসি শরফুদ্দিন। বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতায় অসাধু ব্যবসায়ীদের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক( ট্রাফিক) রহুল আমিন জানান,অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় বন্দরের ২৯ নং শেডের দায়িত্বে থাকা অভিযুক্ত শেড ইনচার্জ রিপন বিশ্বাস ও শফিককে ক্লোজড করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সাপেক্ষ্যে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন করে ওঠা অভিযোগটি ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত শুল্ক ফাঁকিতে অভিযুক্ত বা সহায়তাকারী সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে কাস্টমস হাউসের শৃঙ্খলা নষ্ট হবে ও একই সাথে এ বন্দর থেকে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা