তারেক মুহম্মদ আব্দুল্লাহ রানা, শেরপুর : পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে থাকা সত্ত্বেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ভিক্ষা করে দিন কাটছে ৮০ বছর বয়সী ফাতেমা বেগমের। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধা ভাতার সামান্য অর্থ পেলেও তা দিয়ে চলে না তাঁর চিকিৎসা ও জীবনযাপনের খরচ। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই বৃদ্ধাকে তাই জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন বের হতে হয় মানুষের দ্বারে দ্বারে। একসময় যে পরিবারে স্বামী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেই পরিবারের বৃদ্ধ স্ত্রীকে এখন বেঁচে থাকার তাগিদে হাত পাততে হচ্ছে মানুষের কাছে।
ফাতেমা বেগম শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের সডিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুরুল হক। অন্যের দেওয়া কয়েকটি টিন দিয়ে তৈরি দুই চালার একটি ঘরে তাঁর বসবাস। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ঘরটি এখন জরাজীর্ণ। ঝড়-বৃষ্টিতে সেখানে বসবাস করা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। জীবনের শেষ বয়সে এসেও নিরাপদ আশ্রয় জোটেনি তাঁর ভাগ্যে।
ফাতেমা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর স্বামী নুরুল হক ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর পূর্বনাম ছিল নন্দলাল বর্মন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ফাতেমা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করার সময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম রাখেন মো. নুরুল হক। তাঁর তিন স্ত্রী ছিলেন। জীবনের শেষ সময়ে তিনি হালুয়াঘাট এলাকায় একটি মসজিদে মোয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হিসেবে ভাতা পেলেও বার্ধক্য, চিকিৎসার ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের চাপে অসহায় হয়ে পড়েছেন ফাতেমা বেগম। বয়সের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। অথচ এই বয়সে তাঁর প্রয়োজন ছিল সন্তানদের সান্নিধ্য, নিয়মিত চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়। বাস্তবে জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে তাঁকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে বেঁচে থাকার জন্য।
পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে ভিক্ষা করে চলতে হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর এমন অসহায় জীবনযাপন সমাজের মানবিক দায়িত্ববোধকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে ফাতেমা বেগমের চিকিৎসা, নিরাপদ বাসস্থান এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। জীবনের শেষ দিনগুলো যেন তাঁকে অনাহার, চিকিৎসাহীনতা ও অনিরাপদ ঘরে কাটাতে না হয়—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।
