মহেশপুর, ঝিনাইদহ থেকে মেহেদী হাসান সিরাজী : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় পৃথক তিনটি স্থান থেকে এক নারীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা এবং পারিবারিক হতাশার কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে ও বিষপানে তারা আত্মহত্যা করেছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) পৃথক সময়ে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার ঝিটকীপোতা গ্রামের মোঃ আব্দুল হামিদের ছেলে মোঃ ইনছান হাসান (৩৫), ভালাইপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানের স্ত্রী মোছাঃ শিমু খাতুন (৪০) এবং পীরগাছা বাগানপাড়া এলাকার মৃত ওহদ মুন্সীর ছেলে কৃষক মোঃ আব্দুর সামাদ (৫৭)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঝিটকীপোতা গ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক ইনছান হাসান গত রবিবার সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিলেন। স্বজন ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশ তাকে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পাননি। সোমবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে বসতবাড়ির পেছনে প্রতিবেশী রাশেদুলের একটি কাঁঠালগাছে পাটের রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান ফরিদা খাতুন নামে এক প্রতিবেশী। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
অন্য এক ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে ভুগছিলেন ভালাইপুর গ্রামের মোছাঃ শিমু খাতুন। সম্প্রতি অসুস্থতাজনিত কারণে তার হাত পুড়ে যায় এবং তিনি তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছিলেন।গত ১১ অক্টোবর রবিবার সকাল ৬ টার দিকে পরিবারের অগোচরে নিজের ঘরে তিনি কীটনাশক পান করেন। স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কিছুটা সুস্থ হলে পুনরায় মহেশপুর হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে পীরগাছা গ্রামের কৃষক মোঃ আব্দুর সামাদ সোমবার ফজরের নামাজ শেষে সকাল ৬টার দিকে মাঠে নিজের ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করতে যান। পুলিশ জানায়, মানসিক হতাশা থেকে তিনি নিজেই উক্ত বিষ পান করেন। পরে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে বিষয়টি জানালে পরিবারের সদস্যরা সকাল ৮টার দিকে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান আলম জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করেছে। মৃতদেহগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
