পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর রিনা বেপারী (৩৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের কালিগঙ্গা নদীতে ভাসমান অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশের একটি টিম নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ফেরিঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার উত্তরে শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের পূর্ব কালিকাঠি খালের প্রবেশ মুখ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকাজে নৌবাহিনীর আধুনিক একটি টিম, বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিস ও নাজিরপুর থানা পুলিশ সদস্যরা অংশ গ্রহন করেন।
উদ্ধার হওয়া নিহত রিনা বেপারী পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের শংকর বেপারীর স্ত্রী।
জানা গেছে,গত তিন দিন আগে সোমবার (১৮ অক্টোবর) শংকর বেপারী তার পরিবার নিয়ে শ্রীরামকাঠীর বিভিন্ন মন্দিরে দূঘাপূজার অনুষ্ঠান গুলি দেখে নিজ বাড়ী নেছারাবাদ উপজেলার ভরতকাঠীতে যাওয়ার জন্য শ্রীরামকাঠী ফেরীঘাট ঘেকে যাএীবাহী ট্রলার উঠেন এবং রাত সাড়ে আট ঘটিকার সময়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় রিনা বেপারী ও তাঁর আট বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ুয়া মেয়ে অদ্রিতা বেপারী পানিতে তলিয়ে যায়। ঘটনার দিন রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল শ্রীরামকাঠী ফেরিঘাট এলাকা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। তবে ঐরাতেই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ ছিলেন মা রিনা বেপারী।
তাঁর সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল,নৌ বাহিনীর আধুনিক ডুবরিদল ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখেন। মঙ্গলবারও উদ্ধার অভিযান চলে। অবশেষে বুধবার সকালে নদীতে ভাসমান অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁর মরদেহ দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পিরোজপুর জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক রায়হানুর আশরাফ জানান, দুর্ঘটনার দিনই আমরা শিশুর লাশ উদ্ধার করতে পেরেছিলাম। তবে গৃহবধূ নিখোঁজ ছিলেন। আজ সকালে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। ট্রলারে আমাদের উদ্ধার অভিযান চলমান ছিল। সকালে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে মধুরাবাধ এলাকা থেকে লাশটি শনাক্ত করা হয়। নিহতের দেবরের মরদেহটি শনাক্ত করার পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রলার চলাচলের জন্য পৃথক ঘাট নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা।
তিনি বলেন, আপনাদের সবার সহযোগিতায় নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রলার চলাচলের জন্য একটি পৃথক ঘাট নির্মাণ করা হবে। এ দুর্ঘটনায় কারও অবহেলা থাকলে তদন্তসাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
