শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ অবিরাম বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি হাজারো শরণার্থী

অবিরাম বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি হাজারো শরণার্থী

রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার থেকে : টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা ও বন্যাসদৃশ পরিস্থিতি। আশ্রয়কেন্দ্রে পানি ঢুকে পড়ায় নিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো রোহিঙ্গা শরণার্থী।
সোমবার (২২ জুন) সকালে টেকনাফ উপজেলার আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫-এর ডি-১ ব্লকে বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র আংশিক প্লাবিত হয়। রাতভর বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার বিছানা, কাপড়চোপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও ঘরের মেঝে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের উদ্বেগ বেড়ে যায়। বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ঘরগুলো ভারী বৃষ্টিতে সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় চলাচল ব্যাহত হয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল গফুর জানান,
টানা ভারী বর্ষণের কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেশ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পানি প্রবেশ করায় শরণার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। আমরা ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। কোনো পরিবার ঝুঁকির মধ্যে থাকলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস ও পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি থাকে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে, যাতে সময়মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়।”

বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রবীণরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অপেক্ষা করছে, আবার কেউ কেউ ঘরের ভেতরেই পানি সেচে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ক্যাম্পবাসীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী উঁচু স্থানে সংরক্ষণ, শিশুদের বন্যাকবলিত এলাকা থেকে দূরে রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢাল বা নিম্নাঞ্চলে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মানবিক সহায়তা সংস্থা ও ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য শরণার্থীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বর্ষার প্রতিটি দিন যেন নতুন এক অনিশ্চয়তার নাম। নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা লাখো রোহিঙ্গার জীবনে প্রকৃতির এই বৈরী রূপ আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিল—শরণার্থী জীবনের সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা