🟥 অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদ অভিযানে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ; রেঞ্জ কর্মকর্তার অবস্থা আশঙ্কাজনক, মামলা প্রস্তুতিতে বন বিভাগ।
রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার থেকে : কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জের সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা পানের বরজ উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে পানেরছড়া রেঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বন বিভাগের নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে একটি দল সংরক্ষিত বনভূমিতে গেলে অভিযানের একপর্যায়ে একদল দখলদার ও ভূমিদস্যু তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
আহতরা হলেন— রেঞ্জ কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) শরিফুল আলম, ফরেস্ট গার্ড হুমায়ুন কবির, বাগান মালি সাইদুল ইসলাম, বাগান মালি মো. সাজিদ এবং ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্য মিজানুর রহমান।
হামলায় বন বিভাগের অভিযান পরিচালনায় ব্যবহৃত সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর কয়েকজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হতে পারে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদে আইনানুগ অভিযান চলাকালে আমাদের সদস্যদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা হয়েছে। পাঁচজন আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুত মামলা দায়ের করা হবে।”
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে হামলার ঘটনায় পানেরছড়া সমিতিপাড়া ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নাজির, সাহাবউদ্দিন, জসিম ও আবদুল্লাহর নাম উঠে এসেছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন হামলায় অংশ নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বনকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে লোকবল সংকটের সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে সেখানে পানের বরজ, বসতঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করছে। এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান চালাতে গেলেই বন কর্মকর্তাদের বাধা, হুমকি এবং হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা এবং বন বিভাগের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বন দখল ও সহিংসতার ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
