রিয়াজ উদ্দিন | কক্সবাজার
টানা ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজারের পর্যটন নগরীর অন্যতম আকর্ষণীয় সড়ক মেরিন ড্রাইভে বুধবার দুই দফায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে পর্যটকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। ধসের কারণে প্রায় আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় শতাধিক যানবাহন সড়কের দুই পাশে আটকা পড়ে, চরম ভোগান্তিতে পড়েন পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ১০টা এবং দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার দরিয়ানগর এলাকায় পৃথক দুই দফায় পাহাড় ধস নামে। প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ফুট উঁচু পাহাড়ের একটি বড় অংশ গাছপালাসহ সড়কের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে সড়কে কাদামাটি ও গাছের স্তূপ জমে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধসের সময় হিমছড়িমুখী একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপর পাহাড়ের মাটি এসে পড়ে। এতে অটোরিকশায় থাকা পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজন পর্যটক রয়েছেন। তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দরিয়ানগরের বাসিন্দা মমতাজ আলম বলেন, পাহাড় ধসের মুহূর্তে অটোরিকশাটি ঘটনাস্থল অতিক্রম করছিল। হঠাৎ পাহাড়ের মাটি ও গাছ ভেঙে পড়ে গাড়িটির ওপর, ফলে যাত্রীরা আহত হন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, আহতদের মধ্যে পর্যটকসহ তিনজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে সড়ক থেকে ধসে পড়া মাটি ও গাছপালা সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ধসের ঝুঁকি বেড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে মেরিন ড্রাইভের পাহাড়ঘেঁষা অংশগুলোতে প্রায়ই ছোট-বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।তাই ভারী বৃষ্টির সময়ে এই সড়কে চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা।
৫০
