শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ অপরাধ দমনে দেশজুড়ে বসছে এআই ক্যামেরা

অপরাধ দমনে দেশজুড়ে বসছে এআই ক্যামেরা

মনির হোসেন জীবন, তুরাগ : রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশে অপরাধ দমন, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলা, মহানগর, সিটি করপোরেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ককে এআই-নির্ভর নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজধানীতে বড় ধরনের চুরি, ছিনতাই, খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অপহরণ, কিশোরগ্যাংয়ে তৎপরতা, পেশাদার কিলার, মাদকের হট স্পট, অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করবে (এআই) ক্যামেরা। এছাড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোকে খুব শিগগিরই নজরদারির আওতায় আনা হবে। খবর পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

তথ্য অনুসন্ধান, বিভিন্ন প্রাপ্তসূত্র ও পুলিশ জানান, অপরাধ দমনে বিভিন্ন দেশের আদলে বাংলাদেশেও প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোসহ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধী ধরতে এআই ক্যামেরা বসানো হবে। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য ১০ লাখ এআই ক্যামেরা কিনবে বাংলাদেশ পুলিশ। এআই ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার। পাশাপাশি নগরীতে যে কোনো ধরনের নৈরাজ্য – বিশৃঙ্খল রোধকল্পে ‘সেফ সিটি’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে কাজ করছে সরকার। খবর ট্রাফিক পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ একাধিক বিভিন্ন তথ্য সূত্রের।

পুলিশ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এ উদ্যোগের আওতায় বিপুলসংখ্যক এআই ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক সিগন্যাল ও মোড়গুলোতে প্রায় ১৫ হাজার ক্যামেরা ও বিভিন্ন ডিভাইস স্থাপনের একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। দেশব্যাপী মোট ক্যামেরার সংখ্যা ও প্রকল্প ব্যয় নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব থাকলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে।
প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত ক্যামেরাগুলো শুধু ভিডিও ধারণ করবে না; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ভিডিও বিশ্লেষণ করে যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন চিহ্নিত এবং সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করার সক্ষমতা থাকবে। জনবহুল এলাকায় মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমেও ডেটাবেজে থাকা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ক্যামেরাগুলোকে একটি সমন্বিত সফটওয়্যার, ডেটাবেজ ও ডেটা সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। কোনো এলাকায় অপরাধ, দুর্ঘটনা বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ন্ত্রণকক্ষে পৌঁছাবে। এতে ঘটনাস্থল শনাক্ত করার পাশাপাশি অপরাধী বা সন্দেহভাজনের গতিবিধি অনুসরণে সহায়তা পাওয়া যাবে।

এসব বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে রাজধানীর ১৬টি পয়েন্টে ৩৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এতে আইন ভাঙার প্রবণতা কমেছে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে রাজধানীর দুই শতাধিক পয়েন্টে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। গাড়ি চুরি রোধ ও অপরাধী শনাক্ত করতেও এসব ক্যামেরার সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকায় এআই ক্যামেরা স্থাপন ও ব্যবহার শুরু : রাজধানীতে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরার ব্যবহার ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার ১৬টি মোড়ে ৩৭টি এআই ক্যামেরা এবং ৮০টি পিটিজেড ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য: এআই ক্যামেরার ব্যবহার শুরু হওয়ার পর ট্রাফিক আইন ভঙ্গের প্রবণতা কমেছে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আগামী কয়েক মাসে রাজধানীর আরও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টকে এআই নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিগন্যাল অমান্য, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রমসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা বা জরিমানার প্রক্রিয়া চালুর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ঢাকায় ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক মামলা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাড়বে নজরদারি : দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতেও এআই ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-বগুড়া, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনাসহ গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়ককে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা রয়েছে।

সচেতনমহল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অতিরিক্ত গতি, অবৈধ পার্কিং, উল্টোপথে গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তে এসব ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। আইন অমান্যকারী যানবাহনের মালিককে মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য জানানোর ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

অপরাধী শনাক্তে মুখমণ্ডল ও নম্বর প্লেট বিশ্লেষণ:
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এআই ক্যামেরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হবে স্বয়ংক্রিয় বিশ্লেষণ। কোনো অপরাধী গাড়িতে করে পালিয়ে গেলে নম্বর প্লেট শনাক্ত করে পরবর্তী ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে তার গতিপথ অনুসরণ করা সম্ভব হবে। একইভাবে নিখোঁজ ব্যক্তি বা শিশু শনাক্তের ক্ষেত্রেও মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রায় ৪ হাজার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারির পরিকল্পনা: প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর প্রায় ৪ হাজার গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ট্রাফিক সিগন্যালে ক্যামেরা ও ডিভাইস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অপারেশনস রুম স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। অপারেশনস রুম থেকে প্রশিক্ষিত কর্মীরা ক্যামেরার তথ্য পর্যবেক্ষণ করবেন। সব ক্যামেরার তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডেটা সেন্টারে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো ক্যামেরা অচল হলে সেটিও দ্রুত শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ : প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, দুবাই ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও ক্যামেরা সংগ্রহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন কাঠামো, ক্যামেরা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি নির্বাচন এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তথ্য সুরক্ষায় জোর : ক্যামেরার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত ও জনসাধারণের তথ্য সংগ্রহ হতে পারে। ফলে প্রকল্পে তথ্য সুরক্ষা, ডেটা সংরক্ষণ এবং তৃতীয় পক্ষের কাছে তথ্য চলে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছে। পুলিশ সদর দপ্তর চায়, ক্যামেরা নেটওয়ার্ক ও ডেটা সেন্টারের নিয়ন্ত্রণ নির্দিষ্ট সরকারি কাঠামোর মধ্যে রাখা হোক। একই সঙ্গে ফায়ারওয়াল, এনক্রিপশন এবং নিরাপদ সার্ভার ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

‘সেফ সিটি’ ধারণায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি:
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নগরবাসীর নিরাপত্তা বাড়াতে ‘সেফ সিটি’ ধারণার আওতায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য হিসেবে অপরাধ শনাক্তকরণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনা মোকাবিলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়া নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বলছে, সড়কে শৃঙ্খলা আর জনমনে স্বস্তি ফেরাতে তারা নতুন করে মাঠে নেমেছে । যানজট থেকে রাজধানীবাসীকে মুক্তি দিতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ক্যামেরার ব্যবহার সুফল দিচ্ছে। সহজে সড়কে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে। অতীতে নানা উদ্যোগের কোনোটিই সফল হয়নি। এআই ক্যামেরা স্থাপনের পর বেশিরভাগ সড়কে ফিরেছে শৃঙ্খলা। এখন ট্রাফিক পুলিশকে হাতের ইশারাও দেওয়া লাগছে না। কেউ আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতাও করছে না।

প্রতিটি এআই ক্যামেরার দাম ৫২ হাজার টাকা : এআই ক্যামেরা সহজেই কম্পিউটার বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অনেক দূর থেকেও স্পষ্ট ছবি শনাক্ত করতে পারে। একেকটি ক্যামেরার দাম পড়বে ৫২ হাজার টাকার বেশি। ক্যামেরার সফটওয়্যারে ৬ ধরনের আইন অমান্যের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব আইন অমান্যকারীদের শনাক্ত করবে ক্যামেরা। ইতিমধ্যে সফটওয়্যারের সঙ্গে বিআরটিএ সার্ভার যুক্ত করা হয়েছে। ফলে আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের নম্বর দিয়েই জরিমানা বা মামলার তথ্য মুঠোফোনে চলে যাচ্ছে মালিকদের কাছে। একই কায়দায় অপরাধীদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

অপহৃত ও নিখোঁজদের বিষয়েও তথ্য আসবে : অপরাধ ঘটার পর পুলিশি তদন্তের চেয়ে ‘অপরাধ ঘটার আগেই তা রোধ করা’ বা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করাই প্রধান উদ্দেশ্য। শহরের হটস্পটগুলোতে ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম সক্রিয় থাকলে পেশাদার অপরাধীদের উপস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত করা যাবে। ঘটনার পর অপরাধী যদি গাড়িতে করে পালিয়ে যায়, এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই গাড়ির নম্বর প্লেট ট্র্যাক করে পরবর্তী প্রতিটি মোড়ে পুলিশকে তার অবস্থান জানিয়ে দেবে। অপহৃত ব্যক্তি বা নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে বের করতে ফেসিয়াল ডেটাবেজ প্রযুক্তি বিশেষ সহায়ক হবে।

পুলিশের ৯৯৯-এ যুক্ত থাকবে এআই ক্যামেরা : সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধান সমস্যা আইন না মানার প্রবণতা। সিগন্যাল অমান্য করা, রং সাইডে গাড়ি চালানো, হেলমেট না পরা, ট্রাফিক লাইন অতিক্রম করা বা নির্দিষ্ট গতির চেয়ে বেশি গতিতে গাড়ি চালালে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ই-মামলা তৈরি হবে এবং মালিকের মোবাইলে মেসেজ চলে যাবে। নির্দিষ্ট রোডে গাড়ির চাপের ওপর ভিত্তি করে এআই সিস্টেম সিগন্যালের সবুজ ও লাল বাতির সময়সীমা নিজে থেকেই সামঞ্জস্য করবে। অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস বা আইনশৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত গাড়ি দেখলে এআই ট্রাফিক সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেন খালি করে গ্রিন সিগন্যাল তৈরি করবে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর ডেটাবেজের সঙ্গে ক্যামেরা নেটওয়ার্ক যুক্ত থাকবে। এতে কোনো নাগরিক ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে সাহায্য চাইলে ঘটনাস্থলের নিকটস্থ এআই ক্যামেরার লাইভ ফিড অপারেটরের সামনে দৃশ্যমান হবে।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা থাকবে কঠোর : পুলিশ জানায়, নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় কঠোর ‘ডেটা সুরক্ষা আইন’ মেনে এই নেটওয়ার্ক পরিচালিত হবে। ডেটা সেন্টারের সুরক্ষায় জাতীয় স্তরের ফায়ারওয়াল এবং এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হবে। ক্যামেরাগুলো পরিচালনার জন্য পুলিশ ও কারিগরি দলগুলোকে এআই ডেটা বিশ্লেষণ এবং সিস্টেম পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ দেবে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো। এই নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

ডিএমপি’র পুলিশের একাধিক কর্মকর্তারা জানান, প্রচলিত সিসি ক্যামেরা মূলত দৃশ্য ধারণ করে। কিন্তু এআই ক্যামেরার স্বয়ংক্রিয় বিশ্লেষণ ক্ষমতা রয়েছে। কোনো দ্রুতগতির গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করে তা জাতীয় ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা, সন্দেহজনক জটলা, মারামারি, আগুন বা পরিত্যক্ত বস্তু শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণকক্ষে সংকেত পাঠানোর সক্ষমতা রয়েছে এসব ক্যামেরার।

এ প্রসঙ্গে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দৈনিক জনতাকে বলেন, মোট প্রায় ১০ লাখ ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা আছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাইসহ আরও কয়েকটি দেশ থেকে ক্যামেরা কেনা হবে। তবে চীন থেকে আসবে বেশি। ওইসব দেশ কারিগরিভাবেও আমাদের সহায়তা করবে। এবিষয়ে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অন্যান্য মন্ত্রীবর্গ, প্রতিমন্ত্রী, আইনপ্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও যথেষ্ট আন্তরিক।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা