কাউছার মাহদী, বাহুবল: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নে একই রাতে পাশাপাশি দুই গ্রামে চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শেওড়াতলী গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন তারা মিয়ার বাড়িতে হানা দিয়ে চোরেরা দুটি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে। এর আগে পাশের চকগাঁও গ্রামে চুরির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৭-আগস্ট) ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে শেওড়াতলী গ্রামের সাবেক পুটিজুরী ইউপি চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন তারা মিয়ার বাড়িতে চোরেরা প্রবেশ করে। সাবল দিয়ে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় তারা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে গরুর মালিক মো. বছির মিয়া গোয়ালঘরের দরজা ভাঙা দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলে দুটি সাবল পড়ে থাকতে দেখা যায়। সরেজমিনে গোয়ালঘরের পাশের জায়গায় গরু ছুটে যাওয়ার চেষ্টার চিহ্নও দেখা গেছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, একই রাতে এর কিছুক্ষণ আগে পাশের চকগাঁও গ্রামেও চুরির চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা।
চকগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বাতির মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তিনি চোরদের দেখতে পান। চুরিতে সফল না হয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা তালা কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো যন্ত্র ঘটনাস্থলে ফেলে যায়। একই রাতে পাশাপাশি দুই গ্রামে চুরির চেষ্টা এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে দুটি গরু চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, কিংবা একই চক্র এতে জড়িত কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, শেওড়াতলী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ফেরদৌস আহমদের ধারণা, পূর্বশত্রুতার জের ধরে গ্রামেরই কেউ চোরদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে থাকতে পারেন। তাঁর সন্দেহ, স্থানীয় কারও ইন্ধনেই এই গরু চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, চুরি যাওয়া গরু দুটি দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এলাকায় রাতের নিরাপত্তা জোরদার করা হোক।
