বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ হবিগঞ্জে সদর হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশু রোগীদের উপচেপড়া ভিড়

হবিগঞ্জে সদর হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশু রোগীদের উপচেপড়া ভিড়

লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে জায়গা সংকটের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, একমাত্র খাবার স্যালাইন ছাড়া প্রয়োজনীয় অনেক সামগ্রীই হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাইরে থেকে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কিনতে হচ্ছে তাদের। এর মধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গত দুই দিনে অর্ধশতাধিক শিশু হামসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিশু হাসপাতালে আসায় শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেক শিশুকে।

হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের অনেকের জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া ও শরীরে র‌্যাশসহ হামের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা সদর হাসপাতালে ছুটে আসছেন। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ।

হামের প্রকোপে বাড়ছে শিশু রোগী : জেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের অনেকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিলেও অবস্থার অবনতি হলে তাদের সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত শিশুর হাঁচি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণ থেকে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসার পাশাপাশি অন্য রোগীদের থেকে পৃথক রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু সদর হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। একই ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগীর অবস্থান এবং পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

ওষুধ-চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট : হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট রয়েছে। তাদের ভাষ্য, খাবার স্যালাইন ছাড়া অনেক প্রয়োজনীয় সামগ্রীই হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাইরে থেকে ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে হচ্ছে। একাধিক স্বজন বলেন, সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে গিয়ে তাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য এই ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নষ্ট ফ্যান-ট্যাপ, ভোগান্তিতে রোগী : শুধু ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট নয়, হাসপাতালের অবকাঠামোগত সমস্যাও রোগীদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। হাসপাতালের বেশ কয়েকটি ফ্যান নষ্ট থাকায় গরমের মধ্যে শিশু ও তাদের স্বজনদের কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। বিভিন্ন পানির ট্যাপসহ প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অতিরিক্ত রোগীর চাপের মধ্যে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় শিশুদের নিয়ে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে পানির ট্যাপ নষ্ট থাকায় দৈনন্দিন প্রয়োজনেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ : অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালের ওয়ার্ড ও আশপাশের এলাকায় অপরিচ্ছন্নতা বেড়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক রোগীকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। মেঝে ও আশপাশের জায়গায় রোগীর স্বজনদের অবস্থানের কারণে পরিবেশ আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

হাম আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতিতে তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। রোগীর স্বজনদের আশঙ্কা, অসুস্থ শিশু সুস্থ হয়ে ওঠার পরিবর্তে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থেকে নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

চিকিৎসক-নার্সরাও চাপে: হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগী সামলাতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। নতুন রোগী ভর্তি, পুরোনো রোগীদের চিকিৎসা এবং জরুরি সেবা সব মিলিয়ে স্বাভাবিক সেবাব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

রোগীর স্বজনরা জানান, একসঙ্গে অনেক শিশু হাসপাতালে আসায় চিকিৎসকের পরামর্শ ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা