রবিন খান, নাটোর প্রতিনিধিঃ নতুনত্ব ও ব্যতিক্রমী কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে নাটোরের সিংড়া উপজেলার শিববাড়ি বাজারে গড়ে উঠেছে পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাবসাইন ফ্যাশন’। তিন তরুণের উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে স্থানীয়ভাবে সাড়া ফেলেছে। মফস্বল এলাকায় এমন একটি পোশাক কারখানা গড়ে ওঠায় একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে মানসম্মত পোশাক তৈরির নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
‘অ্যাবসাইন ফ্যাশন’ এর পেছনে রয়েছেন তিন উদ্যোক্তা বাবু মন্ডল, সোহাগ আলী সরদার ও আব্দুল্লাহ আল আরিফ। কৃষ্ণপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে বাবু মন্ডল এইচএসসি ও ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন। এর আগে তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পাওয়ার পয়েন্টে কাজ করেছেন। ভাগনাগরকান্দী গ্রামের আকরাম হোসেনের ছেলে সোহাগ আলী বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন। আর আত্রাই উপজেলার নন্দীগ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল আরিফের গার্মেন্টস সেক্টরে রয়েছে ১৩ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা।
সম্পর্কের দিক থেকে বাবু মন্ডল ও সোহাগ আলী মামাতো-ফুফাতো ভাই। আর আব্দুল্লাহ আল আরিফ হলেন বাবু মন্ডলের ভগ্নিপতি। পারিবারিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েই তিনজনের যৌথ চিন্তা থেকে ‘অ্যাবসাইন ফ্যাশন’-এর যাত্রা শুরু।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের শিববাড়ি বাজারে প্রায় ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় মার্চ মাসে। বর্তমানে আটটি আধুনিক সেলাই মেশিনে চলছে উৎপাদন কার্যক্রম।
প্রতিষ্ঠানটিতে তৈরি হচ্ছে টি-শার্ট, পলো শার্ট, সুইট শার্ট, জার্সি, ট্রাউজার ও হুডিসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক। বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন দেশের দলের আদলে টি-শার্ট তৈরি করেও ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
উদ্যোক্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ডিজাইন ও মার্কেটিংয়ের সার্বিক দায়িত্ব পালন করছেন সোহাগ আলী। আর উৎপাদন ও কারখানার কাজের তদারকি করছেন বাবু মন্ডল ও আব্দুল্লাহ আল আরিফ। কাজের চাপ বাড়লে স্থানীয়ভাবে আরও তিন থেকে চারজন কর্মী তাদের সঙ্গে যুক্ত হন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
উদ্যোক্তা বাবু মন্ডল বলেন, মফস্বলে থেকেও ভালো কিছু করা সম্ভব এই চিন্তা থেকেই আমরা উদ্যোগটি নিয়েছি। নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি করতে চাই। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সামাউন আলী সুমন বলেন, এলাকায় এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় আমরা খুশি। এখানকার তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে মানসম্মত পোশাক তৈরির উদ্যোগটি প্রশংসনীয়।
উদ্যোক্তারা আশা করছেন, অভিজ্ঞতা, কারিগরি দক্ষতা ও আধুনিক বিপণন ব্যবস্থার সমন্বয়ে ‘অ্যাবসাইন ফ্যাশন’ একদিন স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের পণ্য পৌঁছে দেবে। মফস্বল থেকে একটি স্বনির্ভর পোশাক ব্র্যান্ড গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন তিন তরুণ উদ্যোক্তা।
