শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ সম্ভাবনার পায়রা সমুদ্র বন্দর : অগ্রগতি হচ্ছে দ্রুত গতিতে

সম্ভাবনার পায়রা সমুদ্র বন্দর : অগ্রগতি হচ্ছে দ্রুত গতিতে

এম.আর.প্রিন্স. ব্যুরো প্রধান, বরিশাল : সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন ও সামগ্রিক অগ্রগতির নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠছে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়াস্থ পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর । প্রায় ছয় হাজার দুইশত একর এলাকা জুড়ে দৃষ্টিনন্দন সমুদ্র বন্দরটির কর্মযজ্ঞ শুরু হতে যাচ্ছে পুরোদমে । বন্দরটির প্রথম টার্মিনালের কাজ শেষ ও অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে । ২০২৭ সালের শুরুর দিকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর আশা করা হচ্ছে।

পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্র থেকে জানা যায়, প্রথম টার্মিনাল প্রকল্পের আওতায় জেটি, ব্যাকআপ ইয়ার্ড এবং কার্গো হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে । প্রথম টার্মিনাল থেকে প্রধান সড়কে যাওয়ার জন্য প্রায় সাত কিলোমিটার সিক্স লেন সড়ক সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও চলমান রয়েছে । খুব শীগ্রই আন্দার মানিকের অংশে চার লেনের ব্রিজ হবে । ইয়ার্ডের জন্য অধিকাংশ সরঞ্জাম চলে আসছে । তাই এটা নিয়ে দুশ্চিন্তারও কোন কারণ নেই ।

রামনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায় ড্রেজিং ও মেইনটেন্যান্স কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ ছিলো । খননকৃত চ্যানেল ভরে যাওয়ার তা জরুরি ভিত্তিতে পূনরায় ড্রেজিং করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে । বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং ও অন্যান্য কাজের জন্য সারে চার হাজার সাতশত কোটি টাকার প্রজেক্ট প্রক্রিয়াধীন ।

সম্ভাবনাময় ও দেশের অর্থনীতিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখাকে বিবেচনা করে প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটার খোঁজ খবর নিচ্ছেন । প্রয়োজনীয় সবকিছুর জন্য বড় মাপের প্রজেক্ট আগামী একনেক সভায় যাবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছেন, বড় মাপের হপার ড্রেজার ক্রয়ের তাদের পরিকল্পনা রয়েছে । সকল প্লানিং মন্ত্রণালয়ে দেওয়া রয়েছে । তারা আরও জানায়, বত্রিশ হাজার পাঁচশত মিটারের ইয়ার্ড রেডি এবং বাহিরে প্রায় চুয়াত্তর হাজার মিটার । প্রসস্থ জায়গায় প্রায় চার হাজার গাড়ী পার্কিং সম্ভব ।

সব অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে বন্দরটি পুরোপুরি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে ।
পায়রা মেইন বন্দরের পার্শ্ববর্তী রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং প্রকল্পের মাধ্যমে পায়রা বন্দর চ্যানেলের গভীরতা আরো উন্নীত করা হচ্ছে । যার ফলে পায়রা বন্দর বর্তমানে দেশের গভীরতম বন্দরে রূপান্তরিত হচ্ছে । এতে ২২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এবং ৩২ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট ‘প্যানাম্যাক্স’ আকৃতির বড় জাহাজ ৪০-৫০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য নিয়ে সরাসরি বন্দরে ভেড়া সম্ভব । বন্দরের এই সক্ষমতার মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রসার ঘটবে এবং দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পায়রার বহির্নোঙরে পণ্য আনা-নেওয়া চট্টগ্রাম ও মোংলার চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সাশ্রয়ী । পায়রায় গাড়ি খালাস করলে সেটাও চট্টগ্রাম ও মোংলার চেয়ে সাশ্রয়ী হবে। সড়ক ও নৌপথে এই বন্দর ঢাকার সবচেয়ে কাছে। পলি সারা বাংলাদেশের নদীতেই পড়ে। পলি দিয়েই এই দেশ গঠিত। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের চ্যানেলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। এখানেও তার ব্যত্যয় ঘটবে না।

পায়রা বন্দরকে দুর্নীতি মুক্ত ও ব্যবসায়ীবান্ধব বন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানিয়েছেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেছেন, ‍নতুন বন্দর হিসেবে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পাবরলে ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এই বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হবেন, কাউকে ডাকতে হবে না । বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা যায়, এখানে প্রতিনিয়ত বিদেশি উদ্যোক্তরা পরিদর্শনে এসে সার্বিক অনুকুল পরিবেশে সন্তুষ্ট হয়ে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন ।

পায়রা বন্দরের বর্তমান মুখপত্র আজিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে বন্দর সামর্থ অনুযায়ী যথাযত ভাবেই চালু রয়েছে । নিয়ম অনুযায়ী পণ্য খালাস ও ওঠা নামা অব্যাহত রয়েছে । আশা করছি ডিসেম্বরের মধ্যেই পোর্ট পূর্ণ রেডি হবে এবং ২০২৭ এর শুরুতেই পূর্ণ মাত্রা পাবে। এছাড়া উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অভ্যন্তরীণ অনেক কথাই তিনি বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন ।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা