তারেক মুহম্মদ আব্দুল্লাহ রানা, শ্রীবরদী (শেরপুর) : শেরপুরের শ্রীবরদীতে দোকান ও বসতবাড়ি নির্মাণের নামে শতাধিক বছরের পুরনো খেয়াঘাট (জিয়া খাল) ভরাট করে ফেলেছে প্রভাবশালীরা। বন্ধ করা হয়েছে ব্রীজের দু’পাশ। নির্মাণ করেছে ঘর বাড়ি। বছরের পর বছর প্রশাসেনের নাকের ডগায় ঐতিহ্যবাহী জিয়া খালটি দখল হয়ে গেলেও কোন ভূমিকা নেয়নি প্রশাসন। তাই সামান্য বৃষ্টিতেই পৌর বাজার, শহরে ও এলাকাগুলোতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অচল হয়ে পড়েছে পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা। জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রের একমাত্র খালটি উদ্ধারের দাবী তুলেছে পৌরবাসী, সচেতনমহল ও স্থানীয়রা।
জানা গেছে, শতাধিক বছর পুরানো এ খালটিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল শ্রীবরদী (পুরাতন নাম শম্ভুগঞ্জ) নামে এ বাজার। আর এ খাল দিয়েই বিশাল বিশাল পালতোলা নৌকা দিয়ে এ অঞ্চলের উৎপাদিত পাট, ধান, মরিচ সহ নানান দ্রব্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নেয়া হতো। দেশের অন্যান্য স্থানে চলাচলের নৌপথ ছিলো এটি। শ্রীবরদী ডাকবাংলো পেছন থেকে শুরু হয়ে উত্তরে উজান জল কেশর রায় বিলের মধ্য দিয়ে মিরকি বিল হয়ে পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্র পূর্বে শ্রীবরদী উত্তর বাজার হয়ে চালিয়া বাদি ব্রিজের নিচ দিয়ে বয়শা বিলে এবং পশ্চিমে কুকড়া বিল হয়ে দশআনী নদে মিলিত হয়েছিল খেয়াখাট নামের এ বিশাল খাল। মহকুমা শহর জামালপুর, পার্শ্ববতী বকশিগঞ্জ ও বর্তমান জেলা শহর শেরপুরের সাথে এ নদী পথে যোগাযোগ ছিল অত্যন্ত সহজ। কিন্তু কালের আবর্তে সেই সব আজ শুধুই স্মৃতি। খালের সব পথই বন্ধ করে ভূমিখেকোরা গড়ে তুলেছে দোকান ও বসতবাড়ি। বন্ধ করে দিয়েছে ব্রিজের দু’পাশ। ফলে খালের আওতায় কয়েকশ হেক্টর জমির কৃষিকাজ করতে হচ্ছে শ্যালো সেচ যন্ত্র দিয়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে পড়ছে পৌরবাসী।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালীন নিজে শ্রীবরদীতে এসে এ খালটি পুনঃখনন করেন। তখন থেকেই খালটি জিয়া খাল নামে পরিচিত। কিন্তু একদল প্রভাবশালী দীর্ঘদিন ধরে অল্প অল্প করে ভরাট করায় খালটি সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে পুকুরের মতো যে খালি জলাশয়টি আছে চারদিক থেকে তারও টুটি চেপে ধরেছে ভূমিখেকোরা। একাধিক দোকান, বসতবাড়ি নির্মাণ ও ব্রিজের দু’পাশ বন্ধ করায় পৌরবাজার সহ পুরো এলাকার পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ভোগান্তিতে রয়েছে ব্যবসায়ী ও পৌরবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বলেন, পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জিয়া খালটি ভুমিদস্যুরা দখল করে নিয়েছে। এতে পৌরসভা সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত এ খালটি পুন:খনন করে উদ্ধারের দাবী জানাচ্ছি।
উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলাল বলেন, পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনে জিয়া খাল উদ্ধারের কোন বিকল্প নাই। তাই জনগণের কল্যাণে এ খালটি উদ্ধার করা জুরুরী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, এ খালটি উদ্ধারের জন্য ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। খালের জায়গা সরজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাজ করছি। প্রশাসন এ ব্যপারে তৎপর রয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, এ খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা হলে পৌরবাসীর জলাবদ্ধতা লাঘবের পাশপাশি বহু কৃষিজমি আবাদের আওতায় আসবে।
