শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ আশুলিয়ায় ৫ বছরের শিশু আব্দুর রহমান তাসিন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন : যুবক গ্রেফতার

আশুলিয়ায় ৫ বছরের শিশু আব্দুর রহমান তাসিন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন : যুবক গ্রেফতার

জাহাঙ্গীর আলম রাজু, আশুলিয়া প্রতিনিধি : আশুলিয়ায় চাঞ্চল্যকর ৫ বছরের শিশু আব্দুর রহমান তাসিন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মো. সাইফুল ইসলাম (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে আশুলিয়া থানার কর্মকর্তার কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস-উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম।

এসময় তিনি বলেন, গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে আশুলিয়ার ভাদাইল পশ্চিমপাড়ার মো. হারুন অর রশিদের তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু তাসিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মো. শহিদ মিয়া বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা (নম্বর-১১৫, ধারা: ৩০২/২০১/৩৪) দায়ের করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই (নিরস্ত্র) মো. রাসেল আহম্মেদ।

তিনি আরও বলেন,ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের দিকনির্দেশনায় পুলিশ ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে মো. সাইফুল ইসলামকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে-একটি লাল রঙের শপিং ব্যাগ,দুই টুকরা ইলাস্টিক, এবংঘরের মেঝে ও খাটের নিচ থেকে চাল উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধারকৃত এসব আলামতের সঙ্গে শিশুটির মরদেহ পাওয়ার স্থানের আলামতের হুবহু মিল রয়েছে। আলামত মিল পাওয়ার পর সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।

হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশ সাইফুলকে দুই দফায় মোট দুই দিনের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন ওই অভিযুক্ত যুবক। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হলেও এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য কী ছিল কিংবা সাইফুলের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ঈশান ও আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম (পিপিএম-সেবা) ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা