শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ ভোলা খেয়াঘাট : যাত্রীসংকটে জমজমাট লঞ্চঘাট এখন প্রাণহীন

ভোলা খেয়াঘাট : যাত্রীসংকটে জমজমাট লঞ্চঘাট এখন প্রাণহীন

মোঃ এরশাদুল ইসলাম আজাদ, ভোলা প্রতিনিধি: একসময়ের যাত্রীদের পদচারণায় উৎসবে জমজমাট লঞ্চঘাট এখন প্রাণহীন,খা-খা করছে ভোলা খেয়াঘাটের পন্টুন। একসময় এখানে নোঙর করা থাকত ঢাকাগামী অনেক লঞ্চ । ভিড় লেগে থাকতো যাত্রীদের।

ভোলা খেয়াঘাট- জেলা শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের এই ঘাট থেকে একসময় ভোলা-ঢাকাগামী যাত্রীবাহী আটটি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করতো। এটি ছিল একসময় পুরো জেলার একমাত্র প্রাচীন লঞ্চঘাট। কিন্তু লঞ্চ ও ঘাটকর্মীদের সেই হাঁকডাক, যাত্রীদের ব্যস্ততা, জৌলুশ—সব হারিয়েছে সবার কাছে পরিচিত এই পুরাতন ভোলা খেয়াঘাট।

এই ঘাট থেকে সর্বশেষ ঢাকাগামী দুটি লঞ্চ চলাচল করলেও যাত্রীসংকটের কারণে লোকসান হচ্ছে জানিয়ে গত ৫ জুলাই থেকে তা বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ। ফলে এই খেয়াঘাটে কোনো লঞ্চ না আসায় সুনসান নীরবতা নেমে এসেছে।

বর্তমানে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে ভোলা-ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো চলাচল করছে। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই ঘাট থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি লঞ্চ ও ফেরি চলাচল করছে বলে জানা যায় ।

সম্প্রতি সরেজমিনে ভোলা খেয়াঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ভোলা-ঢাকাগামী যাত্রীবাহী কোনো লঞ্চ নোঙর করা নেই। টার্মিনাল যেন সুনসান নীরবতা। নেই আগের মতো ঘাট শ্রমিকদের হাঁকডাক। একেবারেই নিস্তব্ধতা ।

বিআইডব্লিউটিএ, ঘাট ইজারাদার, ঘাটশ্রমিক, শ্রমজীবী মানুষসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রিটিশ আমল থেকে ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরসিফলী গ্রামে তেঁতুলিয়া নদীসংলগ্ন খালপাড়ে গড়ে ওঠে মূল শহরের খুব কাছে ভোলা খেয়াঘাট। ২০০৪ সালে ভোলা খেয়াঘাট জেলার প্রথম ও একমাত্র লেবার হ্যান্ডেলিং পয়েন্ট হিসেবে ঘোষণা করে বিআইডব্লিউটিএ। এই ঘাট থেকে যাত্রীবাহী ৮টি লঞ্চযোগে জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার যাত্রী প্রতিদিন ঢাকা যাতায়াত করেছিলো।

ঘাটশ্রমিক মো. জসিম বলেন, ‘লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় এখানকার শতাধিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ী কাজের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন।

একজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ভোলা শহরের এই লঞ্চঘাট বন্ধ হওয়ার কারণে বিভিন্ন মালামাল ও পণ্য আনা নেওয়ার খরচ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সময়ও বৃদ্ধি হয়েছে। আগে ভ্যান মালামাল শহরে আনতে ভাড়া দিতাম ২০০ টাকা, এখন ইলিশা ঘাট থেকে মালামাল আনতে ভ্যান ভাড়া দেওয়া লাগে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং সময় লাগে অনেক বেশি। তাই আমরা চাই ভোলার খেয়াঘাট পুনরায় চালু হোক লঞ্চ চলাচলের মাধ্যমে।

ভোলা খেয়াঘাট লেবার হ্যান্ডেলিংয়ের ইজারাদার মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার ভাই খোকন জানান, তারা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুলাই পর্যন্ত এক বছরের জন্য ৫২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে খেয়াঘাট ইজারা নিয়েছেন। ঘাট ইজারা নেওয়ার পর এই ঘাট থেকে মাত্র পাঁচ দিন ভোলা-ঢাকা রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ আবে জমজম-৩ ও এমভি কর্ণফুলী-৯ লঞ্চ চলাচল করছিল। কিন্তু বর্ষার অজুহাতে লঞ্চ দুটি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে তারা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাধ্য হয়ে ইজারার টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য গত ১৭ জুলাই বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বরাবর একটি আবেদন করেছেন।

বিআইডব্লিউটিএ ভোলা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, ‘লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইজারাদার তার ইজারার টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বরাবর একটি আবেদন করেছেন।’

কর্ণফুলী-৯ লঞ্চের ভোলার ব্যবস্থাপক মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘যাত্রীসংকটের কারণে আমাদের লোকসান হচ্ছে। তাই আপাতত ভোলা খেয়াঘাট থেকে ঢাকায় আমাদের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা