শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ রাজনীতি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস : প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস : প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। তাঁর ভাষায়, বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দলটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

এ উপলক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ আর সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনটি বাংলাদেশি মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।’

বাণীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে (রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠাকে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যখনই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকেরা জীবন দিয়েছেন।

গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাঁদের অবদানও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তিনি।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, দেশে যতবার জনগণ নির্ভয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির উদ্যম ও উদ্যোগের ফলে দলটি দেশবাসীর কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ‘ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের’ অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিএনপি তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠায় বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।

বাণীর শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। বিএনপির অপর নাম—একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি আবারও গণতন্ত্রকামী ও স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা