মনোয়ার হোসেন সোহেল ঘাটাইল টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ শাল-গাজরির বন ধ্বংস করে চাষ করা হচ্ছে কলার বাগান। আর এ ক্ষেত্রে রক্ষক অর্থ্যাৎ বন বিভাগ ভূমিকা পালন করছে দর্শকের। নিষিদ্ধ গজারি গাছ কাটায় কোনো মামলা হয়নি। দখলদারদের বিরুদ্ধে এখনো নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ বন বিভাগের লোকজন এমন ঘটনার ক্ষেত্রে বরাবরই দিনের বেলায়ও চলেন চোখ বন্ধ করে। এ চিত্র টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কাজলা এলাকার।
সরকারিভাবে শাল—গজারি গাছ কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধের মাত্রা এমন যে, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতেও এ গাছ বেড়ে উঠলেও তা কাটা যাবেনা। কিন্তু কাজলা এলাকার সরকারি বন বিভাগের জমি থেকে রাতে নয় সূর্যের আলোতেই দুই বছর আগে ২৪ বিঘা জমি থেকে প্রায় আড়াই হাজার গজারি গাছ কাটা হয়েছে। গাছ কাটা এবং গাছের গুঁড়ি উপড়ে ফেলার যজ্ঞ চলে প্রায় মাসখানেক ধরে।
স্থানীয়দের অভিযোগ গাছগুলো রক্ষায় কোনো ভূমিকাই নিতে দেখা যায়নি বন কর্মকর্তাদের। সরেজমিনে দেখা যায় বিশাল কলাবাগানের এক কোণায় সীনা টান করে মাথা উঁচু করে এখনো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে একটি গজারি গাছ। কলাবাগান করায় গাছের গুঁড়ি আগেই গুঁড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তবে কলাগাছ ছাপিয়ে আকাশপানে উঁকি দেওয়া গজারি গাছটি প্রমাণ করে একদা এখানে ছিল সমৃদ্ধ এক গজারি বন।
স্থানীয়রা জানান, গজারি গাছগুলো কেটেছেন ইকবাল তালুকদার ও আল আমিন। ওই সময় বন বিভাগকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। খেঁাজ নিয়ে জানা যায় ইকবাল তালুকদার উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং আল আমিন লক্ষিন্দর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। তবে গাছ কাটার বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে দুজনেই তা অস্বীকার করেন।
স্থানীয় এক যুবক আব্দুল মান্নান বলেন, ওইস্থান এলাকাবাসির কাছে পরিচিত তালতইলা চালা হিসেবে। বছর দুই আগেও ওইখানে ছিল বিশাল এক গজারির বন। প্রায় আড়াই হাজার গাছ কাটার পর কিছুদিন ছিল বিরানভূমি। এখন ওই জায়গায় বিশাল কলা বাগান। গাছগুলো কেটেছেন ইকবাল তালুকদার এবং আল আমিন মেম্বার। বন বিভাগকে বারবার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করেনি।
তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসাইনকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। দীর্ঘদিন ধরে শুধু বলে আসছেন ওইখানে বাগান করা হবে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বনের যত জমি দখল হয়েছে এভাবেই বন কর্মকর্তাদের যোগসজসেই হয়েছে।
বনের ওই জমি এখন দখলে রেখেছেন আহম্মদ আলী, মোহাম্মদ আলী ও সাহেব আলী নামে তিন ভাই। দেখভাল করেন তাদের সন্তানরা। কথা হয় আহম্মদ আলীর ছেলে খসরু মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ওইখানে গজারির বন ছিল। গাছ বিক্রি কলাবাগান করার জন্য সাইফুল ইসলামের কাছে বিঘা প্রতি বছরে ৪০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে।
জানা যায় ওই জায়গা থেকে ১৪ শতাংশ জমি ফজলুল হক নামে এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর দলিল মূলে পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন খসরু মিয়া। ওই মূল্যে জমি বিক্রির কথা স্বীকারও করেন খসরু।
কলা বাগান করেছেন সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। মুঠোফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।
বিপুল পরিমাণ গজারি গাছ কাটায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি? এমন প্রশ্নের জবাবে বন বিভাগের ঘাটাইল ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসাইন বলেন, গাছ কাটা হয়েছে আমি এখানে যোগদান করার আগে। তবে ওইখানে যে গজারি বন ছিল তার আলামত আমি দেখেছি। তিনি আরও বলেন, ওই জায়গার মালিক বন বিভাগ। জমির পরিমান ১৫ বিঘা। কলাবাগন করার সময় আপনি অবগত হয়েছিলেন কিনা? তাঁর জবাব— রাতারাতি কলাবাগন করা হয়েছে। কলাগাছ তো অনেক বড় হয়ে গেছে, দীর্ঘদিন পার হলেও কেন ব্যবস্থা নেননি? উত্তরে তিনি বলেন—বাগান মালিক শহিদুলকে অফিসে এসে দেখা করতে বলা হয়েছিল, তিনি আসেননি। গজারি গাছ কেটে কলাবাগান করা যায় কিনা? তাঁর সোজা উত্তর : কোনোভাবেই এ কাজ কেউ করতে পারেন না। দ্রুত এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বনায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
