মোঃ মনজুর মোল্লা : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অননুমোদিত ওষুধ ও কবিরাজি পণ্যের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি ফেসবুকে “জিনসেং হালুয়া (পাওয়ার সোর্স কিং)” নামের একটি পণ্যের চটকদার প্রচার চালিয়ে অবৈজ্ঞানিক ও বিভ্রান্তিকর দাবি তুলে তা বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। “রাতভর গর্জন চলবেই” কিংবা “পাওয়ার সোর্স কিং”—এমন স্পর্শকাতর ও মুখরোচক প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করছে অসাধু একটি চক্র।
বিজ্ঞাপন বনাম বাস্তবতা
বিজ্ঞাপনে কোনো ধরনের পূর্ব পেমেন্ট ছাড়াই সারা দেশে হোম ডেলিভারির সুযোগ দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘জিনসেং হালুয়া (পাওয়ার সোর্স কিং)’ নামের এই পণ্যের কোনো বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাগত ভিত্তি নেই। ড্রাগ প্রশাসন (DGDA) বা সরকারের কোনো স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এসব কথিত ভেষজ হালুয়া প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের গুরুতর সতর্কতা
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, উপাদান পরীক্ষা ছাড়া তৈরি এসব ভুয়া হালুয়ায় অনেক সময় নিষিদ্ধ ও মারাত্মক ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে দেওয়া হয়, যা তাৎক্ষণিক কিছুটা প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে শরীরে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে। নিয়মিত এসব অননুমোদিত হালুয়া বা কবিরাজি ওষুধ সেবনে মানবদেহের কিডনি ও লিভার অকেজো হওয়া সহ হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
প্রতিকার ও পরামর্শ
যেকোনো শারীরিক বা যৌনজনিত সমস্যার সমাধানে অলৌকিক দাবির ‘জিনসেং হালুয়া’ জাতীয় প্রলোভনে না পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ ধরনের সমস্যায় অনলাইন থেকে অনুমোদনহীন ওষুধ না কিনে সরাসরি রেজিস্টার্ড বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের (ইউরোলজিস্ট বা সেক্সোলজিস্ট) শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এসব ভুয়া ওষুধ সরবরাহকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠে এসেছে
