এসএম সুমন রশিদ,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া কালীবাড়ি গ্রামের সৌদির অর্থায়নে নির্মিত একটি মসজিদে নতুন কমিটির উদ্যোগে ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে এক মুসল্লির বিরুদ্ধে নবনিযুক্ত ইমামকে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামে মৃধাবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম মো: মাইনুদ্দীন জুমা নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওই মসজিদের এক মুছুল্লী মো: জামাল মৃধা পথরোধ করে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মসজিদের নতুন কমিটি গঠনের পর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মো. মাইনুদ্দীনকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে ওই নিয়োগের বিষয়ে মসজিদের মুসল্লি মো:জামাল মৃধা আপত্তি জানান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে বিরোধের জের ধরেই শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ইমামকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মসজিদ কমিটির সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষরা।
মসজিদের নতুন কমিটির সভাপতি মো. মস্তফা মৃধা বলেন,ইমাম সাহেবের আনা অভিযোগগুলো সত্য। আমরা কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন ইমাম সাহেবকে নিয়োগ দিয়েছি।
মসজিদের জমিদাতা আব্দুর রাজ্জাক মৃধা বলেন, আমাকে বিদেশি ডোনার থেকে টাকা কালেকশন করে মসজিদের তিন তলা ভবন করিয়ে দিবে বলে আমার কাছ থেকে মসজিদের নামে জমি নেয় কিন্তু আজ পর্যন্ত একতলা ভবন করে দিয়েছে আর বাকি টাকার কোন হিসেবে আমাদের কাছে দেয় নাই হিসাব চাইলেও সে আমাদের সাথে বাজে ব্যবহার করে।
এবিষয় আমতলী উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি মাওলানা মো. ওমর ফারুক জিহাদী বলেন, ওই মসজিদের দুই গ্রুপের মধ্যস্থতা করার জন্য মসজিদে ডাকলে আমি সেখানে গিয়ে উপস্থিত মুসল্লিদের ৯০ শতাংশ কমিটি বহাল রেখে হাফেজ মাওলানা মাঈনদ্দিনকে মসজিদে ইমামতির জন্য অনুমতি দেন, কিন্তু পরবর্তীতে হুজুরের সাথে অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি ঘটেছে এটা খুবই অন্যায় এবং গর্হিত কাজ আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই
মসজিদের ইমাম মো. মাইনুদ্দীন বলেন, চাওড়া কালিবাড়ী গ্রামে মৃধাবাড়ী জামে মসজিদে আমি ইমাম হিসেবে নিয়োগ পেয়ে আজ শুক্রবার জুমা নামাজ পরানো শেষে বাড়িতে যাওয়ার পথে ওই মসজিদের মুছুল্লী মো: জামাল মৃধা পথরোধ করে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামাল মৃধার বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সব মিথ্যা।
স্থানীয় মুসল্লিরা মসজিদকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ দ্রুত নিরসন এবং ধর্মীয় পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
