কামরুল ইসলাম কামাল, নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদীর শিবপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজ পিতাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ছেলে শাকিল চৌধুরী (৩৫) কে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পালিয়ে যাওয়ার পর গাজীপুরে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শিবপুর মডেল থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান।
পুলিশ জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে শিবপুর উপজেলার ভরতেরকান্দি গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবা বাছেদ মিয়ার (৬০) সঙ্গে ছেলে শাকিল চৌধুরীর বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শাকিল বটি/কুড়াল ও ছুরি দিয়ে বাবার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
এ সময় বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে অভিযুক্ত শাকিল তার মা ও ভাইকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আহত করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় সে।
নিহত বাছেদ মিয়া পেশায় কবিরাজি ওষুধ বিক্রেতা ছিলেন।
ঘটনার পর নিহতের অপর ছেলে নুর নবী রাশেদ (২১) বাদী হয়ে শিবপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ-আল-ফারুকের নির্দেশনায় শিবপুর মডেল থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের বিশেষ টিম অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে মাঠে নামে।
অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে শুক্রবার রাতে গাজীপুরের পূবাইল থানার হায়দরাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে একমাত্র এজাহারনামীয় আসামি শাকিল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার শাকিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরে পুলিশ জানায়, ব্যবহৃত রক্তাক্ত ছুরিটি নিহত বাছেদ মিয়ার পেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত কুড়ালটি অভিযুক্ত শাকিলের শয়নকক্ষ থেকে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত ও হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়াসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
