মো: আব্দুল জব্বার, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়ার কৃতিসন্তান, আনন্দ মোহন কলেজের কৃতি শিক্ষার্থী মোঃ কামরুল হাসান ইমরান অসামান্য ও কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় সম্মানজনক ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ এবং বিশেষ শিক্ষাবৃত্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন।
ইমরান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের মাস্টার্স ফাইনাল (এম.এস.এস) পরীক্ষায় সমাজকর্ম বিভাগ থেকে অংশগ্রহণ করে সিজিপিএ ৪.০০ এর মধ্যে ৩.৭৫ অর্জন করায় কলেজটির শ্রেষ্ঠ কৃতি শিক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে এ অনন্য গৌরবময় ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ এবং বিশেষ শিক্ষাবৃত্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন বলে কলেজ সূত্রে জানা গেছে। তার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ১৭৩২১০৮০০৩৬, শিক্ষাবর্ষ ২০১৭-১৮।
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় ঢাকার সেগুনবাগিচাস্থ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে বিশেষ পুরস্কার ও প্রণোদনা অর্থ তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে কামরুল হাসান ইমরানের সঙ্গে অভিভাবক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জনাব এ.কে.এম সামসুজ্জামান ও ইমরানের বাবা আবুল বাসার মোঃ হাসান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জনাব মাহ্দী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মাননীয় সচিব জনাব আবদুল খালেক।
কামরুল হাসান ইমরান উপজেলার ১নং নাওগাঁও ইউনিয়নের হরিরামবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা হরিরামবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং মাতা রাশিদা বেগম। দুই ভাইয়ের মধ্যে ইমরান বড়। ইমরান বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। উন্নত মানের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ না পেলেও হরিরামবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। পরে ২০১১ সালে পাটুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৭৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০১৩ সালে কেশরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ থেকে জিপিএ ৪.৬০ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের সমাজকর্ম বিভাগ থেকে সিজিপিএ ৩.৫৬ পেয়ে সম্মান এবং ২০১৮ সালে সিজিপিএ ৩.৭৫ পেয়ে স্নাতকোত্তর পাশ করে এই অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেন।
আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.কে.এম সামসুজ্জামান বলেন “ইমরান আমাদের গর্ব। দীর্ঘদিন পরে এ কলেজ থেকে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ এর জন্য মনোনীত হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমরা ইমরানের জন্য প্রাণখোলে দোয়া করি। সে তার কর্মজীবনে সাফল্য বয়ে এনে দেশের কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
সমাজকর্ম বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান, ফুলবাড়িয়ার কৃতিসন্তান অধ্যক্ষ আর,জে,এম সেলিম রেজা তালুকদার বলেন, ইমরানের এই অর্জন শুধু ফুলবাড়িয়াবাসীর জন্য নয়, গোটা জেলার শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সে প্রমাণ করেছে, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও সদিচ্ছা ও অধ্যবসায় থাকলে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।” তিনি ইমানের সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
ইমরানের বাবা আবুল বাশার মোঃ হাসান অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, আমার সন্তান তার মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ গৌরবময় ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ এর জন্য মনোনীত হওয়ার খবর শুনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এমন সন্তানের বাবা হিসেবে আমি আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আমি ইমরানের জন্য দেশবাসীর নিকট দোয়া কামনা করছি।
কামরুল হাসান ইমরান বলেন, অসামান্য ও কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমি যেন আমার কর্ম জীবনেও সাফল্য বয়ে আনতে পারি। আমি আমার পিতা-মাতা, শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা করছি।
কামরুল হাসান ইমরানের এই অসামান্য অর্জনে পরিবার, সমাজ, নিজ ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলায় আনন্দের জোয়ার বইছে।
