বৃহস্পতিবার | সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ কুতুবদিয়ায় গত দু’সপ্তাহান্তে পানিতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু

কুতুবদিয়ায় গত দু’সপ্তাহান্তে পানিতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু

কুতুবদিয়া থেকে এম.শহীদুল ইসলাম : কক্সবাজারের উপকূলীয় দ্বীপ কুতু্বদিয়ায় পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা উল্লেখজনক হারে বেড়েছে। এতে জনমনে উদ্বেগ- উৎকন্ঠা বেড়েছে।

চলতি সেপ্টেম্বরের ৪ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত মাত্র ১২ দিনে পানিতে ডুবে পাঁচ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে দক্ষিণ ধুরুংয়ের ওলী পাড়ায় নাবিলা নামে ১৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে ওই ৫ শিশুর মৃত্যু পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা বলে জানা গেছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে আরো জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর বড়ঘোপ ইউনিয়নের মুরালিয়া এলাকার নেজাম উদ্দীনের ৩ বছর বয়সী মেয়ে তাকওয়া পানিতে ডুবে মারা যায়। ১১ সেপ্টেম্বর আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের ঘাটকুলপাড়ার মাহামুদুল করিমের ৪ বছর বয়সী শিশু মিশুও পানিতে ডুবে মারা যায়। ‎১২ সেপ্টেম্বর লেমশীখালী ইউনিয়নের হাবিব হাজির পাড়ার মো. রুবেলের ৫ বছর বয়সী ছেলে মো. জিয়াদ পানিতে ডুবে মারা যায়।

অপরদিকে ‎‎গত ১৩ সেপ্টেম্বর উত্তর ধুরং ইউনিয়নের কুইল্যারপাড়া এলাকার মো. খোকনের শিশু আইমান ও ১৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ধুরুংয়ের ওলী পাড়ার জিয়াবুলের ১৯ মাস বয়সী মেয়ে নাবিলা পানিতে ডুবে মারা যায়। যথারীতি স্বজনরা এসব শিশুদের উদ্ধার কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিযে আসিলে কর্তব্যরত করে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।‎

‎মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পাঁচ শিশুর এমন অনাকাংখিত মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ- উৎকন্ঠা তৈরি করেছে। অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে এই দূর্ঘটনাগুলো হচ্ছে বলে মনে করেন দ্বীপের সচেতন মহল। তাদের মতে, ছোট শিশুদের প্রতি আরো নজরদারি দরকার। বাড়ির আশপাশে পুকুর-ডোবা ও জলাশয়গুলো ঘেরা-বেড়া দিয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখাসহ অভিভাবকদের আরো সচেতন ও শিশুদের চোখে চোখে রাখার গুরুত্বারোপ করেন।

‎দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া ঘুরে দেখা যায, এখানকার অনেক বসতবাড়ির আশপাশে পুকুর, জলাশয়, ডোবা ও খাল রয়েছে। এসব জলাশয়ের অনেকগুলো শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সেগুলো ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।

‎পরপর শিশুমৃত্যুর ঘটনায় দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দ্বীপের সচেতন মহল।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা