কক্সবাজার থেকে রিয়াজ উদ্দিন : পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে ভৌগোলিক পার্থক্য থাকলেও সামাজিকভাবে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী ও কক্সবাজার জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পার্বত্য চট্টগ্রামের পাশাপাশি কক্সবাজার জেলার দায়িত্বও আমাকে দিয়েছেন। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করব বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং জেলার মানুষের সমস্যা সমাধান ও সম্প্রীতি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে।’
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কক্সবাজার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কক্সবাজার প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার-জেইউসি যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার ও বান্দরবানসহ দেশের পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নিতে এবং দেশ-বিদেশে পর্যটনকে তুলে ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। কক্সবাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাদক প্রসঙ্গে সাচিং প্রু জেরী বলেন, ‘মাদক এখন গোটা জাতিকে ধ্বংস করছে। সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়; সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।’
ইতোমধ্যে পাড়া-মহল্লায় মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের সব সংসদ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে পরামর্শ করে জেলার দায়িত্ব পালনে কাজ করবেন তিনি। মাদক প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা, সম্প্রীতি ও উন্নয়নকে সামনে রেখে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রশাসনসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারের উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। মন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তার সবগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বিশেষ করে মাদক, আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও কক্সবাজারের ভূমিপুত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পরিকল্পিত কক্সবাজার উন্নয়ন কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তারা আশা করেন।
কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী বলেন, জেলার সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরে আসছেন। এসব বিষয়ে প্রশাসন ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার-জেইউসির সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আপনি কক্সবাজারেরও মন্ত্রী, আপনি আমাদের আপনজন। কক্সবাজারের সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নে আপনি অভিভাবক হিসেবে জেলার সমস্যাগুলো দেখবেন এবং বিবেচনা করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ সংবাদদাতা শামসুল হক শারেক, অ্যাডভোকেট আবু ছিদ্দিক ওসমানী, ইকরাম চৌধুরী টিপু, এম. আর. মাহবুব, এস. এম. জাফর ও সৈয়দ আলম।
বক্তারা কক্সবাজারের পর্যটন ও উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করার দাবি জানান। তারা বলেন, ২০১৩ সালে প্রণীত পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সংক্রান্ত আইন ও বিধিনিষেধের কারণে কক্সবাজারের পরিকল্পিত উন্নয়ন ও পর্যটন বিকাশে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে।
বক্তারা আইন ও বিধিনিষেধের অপব্যবহারের অভিযোগও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় করে বাস্তবভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
সভায় কক্সবাজারের মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, পর্যটন বিকাশ, পরিবেশ সংরক্ষণ, যোগাযোগব্যবস্থা, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, গত আগস্টে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীকে কক্সবাজার জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
