মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে ভ্যানচালক মো. বাশার গাজী হত্যার ঘটনায় আসামিদের বাড়িঘরে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাজুড়ে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মুন্সিগঞ্জের সীমানা সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের শাহ আলী বাজারে স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতদের পরিবারের ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন। এরপর বিক্ষুব্ধরা মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা ইউনিয়নের মামুদাদপুর এলাকায় গ্রেফতার ৩ আসামি কাউসার মোল্লা, মো.শামীম শেখ ও রাজনের বাড়িঘরে কয়েক দফা হামলা ও ভাঙচুর চালান।
হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে মানববন্ধনে বক্তারা বাশার গাজী হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান। পরে কর্মসূচি শেষে একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা ইউনিয়নের মামুদাদপুর এলাকায় প্রথমে গ্রেফতার আসামি কাউসার মোল্লার দুটি বসতঘরে ভাঙচুর চালায়। এরপর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ইউনিয়নের তৈলখিলা এলাকায় গ্রেফতার অপর দুই আসামি শামীম শেখ ও মো. রাজনের বাড়িঘরেও ভাঙচুর করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে টঙ্গীবাড়ী থানার পরিদর্শক কাজী মাসুদ রানা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সদস্যরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিবিআই ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে টঙ্গীবাড়ীর মামুদাদপুরে নিজ বাড়িতে অটোভ্যান চালক বাশার গাজীকে হত্যা করা হয় বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে। পরে তার মরদেহ ঘরের আঁড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয় বলে জানায় পিবিআই।
এ ঘটনার পর মুন্সিগঞ্জ পিবিআইয়ের একই টিম ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে, এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শামীম শেখ, রাজন ও কাউসার মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চোরাই অটোভ্যান উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই জানায়, গ্রেফতার তিন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ও হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
