বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে মো. কেফাইতুল ভুঁইয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দপ্তরে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে চলছে কার্যক্রম। এতে একদিকে কর্মকর্তাদের ওপর বাড়ছে কাজের চাপ, অন্যদিকে ধীরগতি তৈরি হচ্ছে জনসেবায়।
উপজেলার ৩৩টি সরকারি দপ্তরের মধ্যে অন্তত ১১টি দপ্তরে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ভূমি অফিস, সমাজসেবা, মৎস্য, প্রকল্প বাস্তবায়ন, সাব-রেজিস্ট্রার, শিক্ষা, হিসাবরক্ষণ, যুব উন্নয়ন, পল্লী উন্নয়ন, খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তরে অতিরিক্ত দায়িত্বে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও রয়েছে বড় ধরনের জনবল সংকট। বিজয়নগরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অনুমোদিত ১০০টি প্রধান শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৫২ জন। শূন্য রয়েছে ৪৮টি পদ। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতেও ১২৮টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৫৮টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
জনবল সংকটের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সড়ক উন্নয়নকাজে ধীরগতি, মাদক ও চোরাচালান, অনলাইন জুয়া এবং কৃষিজমি ও জলাশয় ভরাটের মতো বিষয়গুলো নিয়েও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাঁদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ করা না হলে জনসেবা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ওপর চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, “আমরা এসপি, ডিসি ও এমপি মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং বিষয়টি অবগত করেছি। খুব শিগগিরই সমাধান হবে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সুমন ভূঁইয়া বলেন, “স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা সিভিল সার্জন অফিসে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুর রহমান জানান, শূন্য পদগুলো পূরণে পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি ও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে প্রধান শিক্ষক সংকট কমে যাবে।
