কিশোরগঞ্জ থেকে মোঃ মিজানুর রহমান : সরকারি ইজারায় নেওয়া জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মাছ লুটপাট, মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড, আমিনুল ইসলাম রতন ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে। জেলার ইটনা উপজেলার পাচকাহনীয়া (ভূগলী) জলমহাল নিয়ে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন
ভুক্তভোগী ইজারাদার।
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইটনা উপজেলার বড়িবাড়ি ইউনিয়নের শিমুলবাক এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন জলমহালটির ইজারাদার মো. ফরহাদ মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানি, জলমহালের মাছ লুটপাটের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ মিয়া আরও বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে পাচকাহনীয়া (ভূগলী) জলমহালটি ইজারা নেওয়ার পর থেকেই তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। জলমহালটির দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ফরহাদের অভিযোগ, তাঁকে চাপে রাখতে একের পর এক মামলা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জলমহালের মাছ লুটপাটের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি।
জলমহালের পাহারাদারদের ধরে নিয়ে আটক করার মতে গুরুতর অভিযোগ তোলেন ইজারাদার। তাঁর দাবি, সম্প্রতি রাতের আঁধারে জলমহালের চারজন পাহারাদারকে ধরে নিয়ে আটকে রাখা হয়। এ সময় জলমহাল থেকে মাছ লুটপাট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে ওই পাহারাদারদের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগে পুলিশে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ফরহাদ মিয়া। এর আগেও জলমহালের পাহারাদারদের নৌকা আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনায় জলমহালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর।
ফরহাদ মিয়া বলেন, জলমহালটি ইজারা নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হলেও থানা-পুলিশ কিংবা আদালতের মাধ্যমে প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অ্যাড, আমিনুল ইসলাম রতন তাঁর পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অ্যাড, আমিনুল ইসলাম রতন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। যাঁরা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা প্রমাণ দিক। আপনারা সবার বক্তব্য নিন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, সংসদ সদস্যের বক্তব্যও নেন। সত্য যা পাবেন, সেটাই লিখবেন। আমার কোনো আপত্তি নেই।’
তিনি আরও বলেন, সংবাদ সম্মেলনকারীদের তিনি চেনেন না, তাঁরাও তাঁকে চেনেন না। অভিযোগের বিষয়ে এর বাইরে আর কোনো বক্তব্য দিতে রাজি নন বলেও জানান তিনি।
পাচকাহনীয়া (ভূগলী) জলমহাল নিয়ে বিরোধের ঘটনা এবারই প্রথম প্রকাশ্যে আসেনি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বড়িবাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বৈধ ইজারাগ্রহীতাদের উদ্যোগে অ্যাড, আমিনুল ইসলাম রতনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জলমহালের দখলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
এসব অভিযোগকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে গত ১ অক্টোবর দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন জেলার আইনজীবীরা। ফলে জলমহালটিকে ঘিরে বৈধ ইজারাদার পক্ষের সাথে দখলদার গ্রপের পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিরোধ আরও আলোচনায় আসে।
সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে বড়িবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মাখন, ইটনা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর শেখ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আ. রহিম, সাবেক বিএনপি নেতা নুরুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের শতাধিক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ মিয়া নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলমহাল নিয়ে বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত, মাছ লুটপাটের অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে প্রতিকার চেয়েছেন। এ জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
মোঃ মিজানুর রহমান
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
