কিশোরগঞ্জ থেকে মোঃ মিজানুর রহমান : বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হতদরিদ্রের অর্থ আত্মসাৎ এবং মসজিদের নামে বরাদ্দকৃত টাকা লোপাটের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক বিএনপি নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতার নাম মোঃ জুয়েল মিয়া।
তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পাকুন্দিয়া পৌর শাখার ১নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নৈতিকতা বিরোধী ও অনৈতিক আচরণের দায়ে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌর শাখার ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুয়েল মিয়াকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে দলটি।
১৬ই অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পাকুন্দিয়া পৌর শাখা বিএনপির সভাপতি এস.এম. মিনহাজ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম সুজন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মোঃ জুয়েল মিয়া পাকুন্দিয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত আনোয়ার খালী গ্রামের লায়লা খাতুন নামের এক হতদরিদ্র ও অসুস্থ নারীকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি ওই নারীর স্বামী ইব্রাহিমের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও লিখিত অভিযোগ দলের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
এছাড়াও, তার বিরুদ্ধে গ্রামের মসজিদের নামে গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প (টি আর) থেকে বরাদ্দকৃত ১৯ হাজার টাকা মসজিদ কর্তৃপক্ষকে না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
নেতৃবৃন্দ জানান, এই ধরণের আচরণ দলের নীতি, আদর্শ এবং দলীয় শৃঙ্খলার চরম পরিপন্থী, যা দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। এমতাবস্থায়, দলের গঠনতন্ত্রের ১২(ক) ধারা মোতাবেক তাকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
একই আদেশে, ওই কমিটির ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমীন ভূঁইয়া রাসেল-কে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
অবিলম্বে কার্যকর হওয়া এই আদেশের পাশাপাশি, ভবিষ্যতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য তাকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
