মনোয়ার হোসেন সোহেল, ঘাটাইল টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সখীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এরপর নিখোঁজের ২৪ দিন পর সবুজের কঙ্কাল ও তার ব্যবহৃত পোশাক উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।নিহত সবুজ সখীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিলপাড়া এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সখীপুর উপজেলার আন্দি এলাকার একটি শালবনে অভিযান চালিয়ে সবুজের কঙ্কাল, লুঙ্গি ও জুতা উদ্ধার করা হয়।
সবুজের নিখোঁজের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ২৭ সেপ্টেম্বর গোপালপুর উপজেলার সুতী পলাশ বাজার এলাকা থেকে অটোভ্যানসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। তবে এ সময় সবুজের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে হাবিব ও শাহিন নামের আরও দুই ব্যক্তি পালিয়ে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে আটক ২ জনকে চুরির মামলায় আদালতে পাঠানো হয়। তদন্ত নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেন সবুজের বাবা-মা। সন্তানের সন্ধান পেতে তাঁরা পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে, সখীপুর ও গোপালপুর থানা-পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে যুক্ত হয় এসআরবি। পরে হাবিব ও শাহিনকে আসামি করে অপহরণ মামলা করেন পরিবারের সদস্যরা।
গত ১৯ অক্টোবর দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল এলাকা থেকে মো. হাবিবুর রহমান (৩৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি। তিনি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মাটিয়ারগুন গ্রামের হানিফ উদ্দিনের ছেলে।
এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাবিবুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে আন্দি এলাকার শালবনে অভিযান চালানো হয়। তবে তখন কোনো আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহিনকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার সকালে শাহিনকে সঙ্গে নিয়ে ওই শালবনে আবারও অভিযান চালায় এসআরবি ও পুলিশ। এ সময় ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে সবুজের কঙ্কাল ও পরনের পোশাক উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি-১৪ ময়মনসিংহের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সবুজ নিখোঁজের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হাবিবকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধান আসামি শাহিনকে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
তবে সবুজকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। উদ্ধার করা কঙ্কালের পরিচয় শনাক্তে আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা হয়েছে কি না, তা-ও জানা যায়নি।
