বৃহস্পতিবার | অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর হস্তক্ষেপে অবশেষে লিবিয়া থেকে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক

প্রতিমন্ত্রী টুকুর হস্তক্ষেপে অবশেষে লিবিয়া থেকে ফিরলেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক

টাঙ্গাইল থেকে মনোয়ার হোসেন সোহেলঃ Buraq Air বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইট। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে লিবিয়ায় আটকে পড়া অনিয়মিত ও বন্দি বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এই ফ্লাইটটি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। আর এ ফ্লাইটেই পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা ও উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক। তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বজনদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তাঁর উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টায় বুরাক এয়ারের ইউজেড-২২২ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তাঁরা।লিবিয়া ফেরত দুই যুবক হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের কাকুয়া গ্রামের ফজলু হকের ছেলে মো. সবুজ আলী (২২) এবং আব্দুল মালেকের ছেলে মেহেদী হাসান (২৩)।

পরিবার থেকে জানা যায় , চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইতালিতে নেওয়া ও সেখানে কাজ দেওয়ার আশ্বাসে বিদেশে পাড়ি জমান সবুজ ও মেহেদী। সৌদি আরব ও মিসরসহ কয়েকটি দেশ ঘুরিয়ে তাঁদের লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর নানা অজুহাতে ধাপে ধাপে তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে মোট ৩২ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় সাত মাস পর লিবিয়ার পুলিশ তাঁদের আটক করে। পরে তাঁদের ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের বিদেশে পাঠানোর সঙ্গে টাঙ্গাইল শহরের ঘারিন্দা এলাকার কাইয়ুম ও এলেঙ্গা এলাকার আমিন জড়িত। কাইয়ুম পেশায় একজন সিএনজিচালক। স্বজনদের দাবি, কাইয়ুমের আত্মীয় আমিনও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দেশে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং একপর্যায়ে দুই যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

মেহেদী হাসানের পরিবারের সদস্যরা জানান, ২৬ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এরপর হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনেরা। দীর্ঘদিন ধরে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

এমন পরিস্থিতিতে প্রায় দুই মাস আগে সবুজ আলীর বড় ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী রিপন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ পাঠান। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুই যুবকের অবস্থান শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁদের লিবিয়ার তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখার তথ্য জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।

মালয়েশিয়া থেকে মুঠোফোনে রিপন আহমেদ বলেন, আগস্টের শেষে ভাইয়ের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমি নিরুপায় হয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করি। তিনি আমার কথা শুনেছেন এবং সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর সহায়তা না পেলে ভাই কোথায় আছে, সেটিও হয়তো জানতে পারতাম না। তাঁর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিমন্ত্রী টুকুর উদ্যোগে প্রায় দুই মাস আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে দুই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং তাঁদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় মানবিক প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের আওতায় তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সবুজের বড় ভাই রিপন আহমেদ সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি জানার পর দুই যুবকের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। তাঁদের দেশে ফেরাতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে সবাইকে বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া ও আইওএমের সহযোগিতায় একই দিনে মোট ১৭৪ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাগর থেকে উদ্ধারের পর ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ৩৬ জন এবং লিবিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা ১৩৮ জন রয়েছেন। প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪১ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা