রবিবার | নভেম্বর ১, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ ঝিনুক খুন হয় ঢাকায়, লাশ ড্রামে ভরে ফেলা হয় শ্রীবরদীতে : পিবিআই

ঝিনুক খুন হয় ঢাকায়, লাশ ড্রামে ভরে ফেলা হয় শ্রীবরদীতে : পিবিআই

তারেক মুহম্মদ আব্দুল্লাহ রানা, শেরপুর : ‘অনৈতিক কাজের টাকা নিয়ে মনোমালিন্যে ঢাকায় খুন হয় ঝিনুক ঘটনা আড়াল করতে মরদেহ ড্রামে করে ফেলা হয় শেরপুরের শ্রীবরদীতে ।

শেরপুরের শ্রীবরদীতে ব্রিজের নিচে ড্রামের মধ্যে থাকা নারীর মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উন্মোচন করেছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই শেরপুর। আজ দুপুরে শেরপুর পিবিআই অফিসে এসব তথ্য জানান পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
এসময় তিনি জানান, গত ২২ অক্টোবর শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনীয়া এলাকার কুড়েমনি খালের নিচে ড্রামের মধ্যে ঝিনুক আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তদন্ত শুরু করে পিবিআই।

তদন্তে উঠে আসে, ঢাকার টঙ্গী এলাকার বাসিন্দা ঝিনুক আক্তার গত ২১ অক্টোবর হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মাহবুবা আক্তার ফাতেমা, নূর মোহাম্মদ গোসা, সজল ও নূর ইসলামের সাথে দক্ষিণখান এলাকার জুয়েলের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে ১০/১২ জনের সাথে দৈহিক সম্পর্কের পর চলে যাওয়ার সময় তাকে মাত্র ১২০০ টাকা দেয় ফাতেমা। তবে ঝিনুক আরও বেশি টাকা দাবি করলে এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ফাতেমা তাকে বটি দিয়ে উপুর্যপরি কোপ শুরু করে। এতে ঝিনুক মারা গেলে অন্যান্য আসামিরা তার মরদেহ প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাত গাড়িতে ভরে শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনীয়া ব্রিজে ফেলে যায়। তদন্তের এক পর্যায়ে ঘটনার সাথে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে পিবিআই।

গত ২৯/১০/২০২৬ খ্রি: তারিখে পিবিআই শেরপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মাহবুবুর রহমান মামলাটি তদন্ত করছেন।

পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য-প্রযুক্তি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯/১০/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে পঞ্চগড় জেলার বোদা থানাধীন দিঘলগ্রাম থেকে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মোঃ নুর ইসলাম ওরফে বাবু (৪৪)-কে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০/১০/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে ঢাকার উত্তরখান এলাকা থেকে আসামী মোঃ সজল (৪৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে গত ০১/১১/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে একই এলাকা থেকে আসামী মোঃ নুর মোহাম্মদ ওরফে গোসা ওরফে বুশা (৪৪) এবং মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা (৪৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে নুর ইসলাম বাবু বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

পিবিআই এর তদন্তে জানা যায়, ভিকটিম ঝিনুক আক্তার টঙ্গী এলাকায় পার্লারে কাজ করত। ঘটনার তারিখ ও সময়ে আসামিরা তাকে ঢাকার উত্তরখান এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে অনৈতিক কাজের পারিশ্রমিকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা বটি দিয়ে ভিকটিমকে আঘাত করে। পরবর্তীতে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় আসামী ফাতেমা ভিকটিমকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর আসামীরা মরদেহ প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাতনামা গাড়িযোগে শেরপুরের শ্রীবরদী থানাধীন কুড়িকাহনিয়া ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে যায়।

ভিকটিমের স্বামীর সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা