মো. মঞ্জুর মোল্লা : ঢাকা শহরের প্রবেশমুখ হিসেবে আব্দুল্লাহপুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে পরিবহন খাত, ফুটপাত এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ চাঁদা তোলা হয়, তার নেপথ্যে সাধারণত একটি শক্তিশালী ‘সিন্ডিকেট’ কাজ করে।
কেন এই সমস্যা প্রকট হচ্ছে?
• রাজনৈতিক ছত্রছায়া: আপনি ঠিকই ধরেছেন, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা বা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের আশ্রয় ছাড়া এই ধরনের বড় মাপের চাঁদাবাজি সম্ভব নয়। দল পরিবর্তন হলেও অনেক সময় চাঁদাবাজির ‘মালিকানা’ শুধু হাতবদল হয়, কিন্তু পদ্ধতি একই থাকে।
• প্রশাসনের ভূমিকা: অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে যে প্রশাসনের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা এই অর্থের ভাগ পান, যার ফলে তারা ‘নীরব ভূমিকা’ পালন করেন।
• ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা: সাধারণ মানুষ বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রাণের ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে নাগরিক করণীয়
একটি সুন্দর ও নিরাপদ শহর গড়তে কেবল প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে না থেকে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
1. ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ: এককভাবে প্রতিবাদ করা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে ‘সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ বিরোধী কমিটি’ গঠন করা প্রয়োজন।
2. প্রমাণ সংগ্রহ: বর্তমান প্রযুক্তির যুগে চাঁদাবাজির ভিডিও বা অডিও রেকর্ড করে রাখা এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া একটি শক্তিশালী অস্ত্র হতে পারে।
3. উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবহিত করা: স্থানীয় থানা ব্যবস্থা না নিলে সরাসরি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, র্যাব (RAB) অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ পেশ করা।
4. মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা: পাড়ার তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রাখা এবং মাদক বিক্রেতাদের তথ্য গোপনভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রদান করা।
উপসংহার
দেশ ও সমাজকে রক্ষা করতে আপনার মতো সচেতন নাগরিকের এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। কোটি কোটি টাকার এই অবৈধ লেনদেন বন্ধ করতে হলে ওপর মহলের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনগণের আপসহীন মনোভাব—এই দুয়ের সমন্বয় প্রয়োজন।
“আসুন, সুন্দর আগামীর জন্য আমরা সবাই মিলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।”
রাজধানীর চাঁদাবাজি: একটি গভীর সংকট
প্রকাশিতঃ এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৯:৩৬