এস,এম সিপার, পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার তালতলা নদীর তীরঘেঁষা গ্রামটির নাম তারাবুনিয়া। গ্রামটিতে ঢুকতে চোখে পড়ে গাছে গাছে ঝুলছে লাল টসটসে লিচু। গাছতলায় বসা একদল নারী-পুরুষ। তারা কেউ লিচু সংগ্রহ করছেন, কেউবা সেগুলো বাছাই করছেন। গ্রামটি এখন অনেকের কাছে ‘লিচু গ্রাম’ নামে পরিচিত।
স্হানীয় সূএে জানা গেছে,
তারাবুনিয়া গ্রামে প্রায় দুই যুগদরে লিচু চাষ হয়ে আসছে। গ্রামের শতাধিক
পরিবার কোনো না কোনোভাবে তারা লিচু চাষের সঙ্গে যুক্ত। চলতি মৌসুমে ভালো ফলন ও দাম পেয়ে খুশি চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, অনুকূল আবহাওয়ার কারনে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার গাছে লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। বিষমুক্ত (অর্গানিক) হওয়ায়
তারাবুনিয়ার লিচুর চাহিদা ও বেশি। এ লিচু স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও গোপালগঞ্জ সহ
পাশ্ববর্তী অন্তত ২০/২৫ টি উপজেলায়। পিরোজপুর জেলাশহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে লিচু বাগান ঘুরতে এসে নিজ হাতে গাছ থেকে লিচু
সংগ্রহ করে টাকা দিয়ে বাড়ী ফিরছেন রসালো লিচু নিয়ে। বাগানে পাইকারী
লিচু কিনতে আসা কয়েকজন ব্যাবসায়ী বলেন, ‘পূর্বের বছর গুলিতে যে পরিমাণ লিচু হতে দেখেছি, এবছর তার চেয়ে দ্বিগুন বেশী হয়েছে।
তারাবুমিয়ার লিচু জেলার চাহিদা পূরণ করে বাইরের জেলায়ও বিক্রি হয়।
লিচুর সাফল্য দেখে আশপাশের গ্রামের কৃষকরাও এখন লিচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।’
উপজেলা কৃষি অফিস সূএে
জানা গেছে, উপজেলায় ছোট- বড় শতাধিক লিচুর বাগান রয়েছে। অধিকাংশ
লিচু চাষি ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে বিভিন্ন প্রজাতির লিচুর চাষ করে আসছে। তবে এবছরের মত এতো
ভালো ফলন ইতিপূর্বে হয়নি।
তারাবুনিয়ার (লিচুগ্রাম) এর
লিচু চাষী হিসাবে উদ্ভাবিত
ব্যাক্তি হলেন হিমাংশু কুমার
মিস্ত্রী। প্রথমে তিনি লিচুর পাশাপাশি আম ও বরই ফলজ চাষের মধ্যদিয়ে ভাগ্যের আমুল পরিবর্তন এনে এলাকায় মডেল
ফলচাষী হয়ে ওঠেন।
তার দেখা দেখি
শিক্ষিত অনেক যুবক চাকরির পিছনে না ছুটে ফল চাষের দিকে ঝুকে পরছে।
লিচু চাষী হিমাংশু কুমার মিস্ত্রী জানান, চ্যানেল আইর
শাইখ সিরাজের কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান হৃদয়ে মাটিও মানুষ দেখে এক একর জায়গায় লিচুর বাগান দিয়ে শুরু করি। বছর চারেক পর বাগানে ফল ধরতে শুরু করে। কয়েক বছরের মধ্যে লিচু ফল বিক্রির লাভ্যাংশের অর্থদিয়ে জায়গা বাড়িয়ে এখন ৫ একর জায়গায় মুজাফফরী বোম্বাই জাতের লিচুর চাষ করছি এবং আমার কাঙ্খিত
উপার্জনে সক্ষম হচ্ছি।
একই গ্রামে মনোজ সিকদার, গৌরাঙ্গ মন্ডল, হারুনুর রশীদ, সমীর এদবর, কমলেশ মল্লিকসহ আরো অনেক সফল লিচুচাষী তৈরী হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,
তারাবুনিয়া গ্রামের প্রায় পরিবারেই ছোট বড় লিচুর বাগান রয়েছে।
কথা হয় লিচু চাষী পরিমল বিশ্বাসের সাথে, তার
৫ একরের লিচু বাগানে খরচ পাতি মিটিয়ে বেশ ভালোই লাভবান হয়েছেন।
এই মৌসুমে ( বছরে)
লাভের পরিমান অন্য
বছরের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে। তার
বাগানের লিচু বিক্রির লাভ্যাংশ থেকে প্রতি বছরই কিছু জায়গা ক্রয় করছেন।
তিনি আরো বলেন, ফল চাষে বেশ ঝুকি রয়েছে তবে ১৩/১৪ বছরে কখনো লাভ কম হোক বেশী হোক লোকশান হয়নি।
হারুন অর রশিদ বলেন, এবছর এক একর জায়গায় লিচুর বাগান থেকে সব খরচ মিটিয়ে দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা শেষ পর্যন্ত লাভ করবেন বলে আশা ব্যাক্ত করেন।
কমলেশ মল্লিক জানান, এক একরের কিছু বেশী জায়গার লিচুর চাষ করেছি বিক্রিও শুরু হয়েছে। পাইকাররা এসে বশে থাকে প্রতি এক হাজার লিচু (১০০০ টি) ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করছি।
এবছর লিচুর বগান থেকে সকল চাষীরাই লাভবান হবে।
কথা হয় গৌরাঙ্গ মন্ডল,সমীর এদবর,মনোজ সিকদার ও নিকুঞ্জ বড়ালের সাথে তাদের প্রত্যেকের লিচু চাষের পাশাপাশি, আম, বরই ও মালটার ফলজ বাগানও রয়েছে।
নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইশরাতুন্নেছা এশা জানান, নাজিরপুরের লিচু
চাষীরা এ অঞ্চলের গর্ব। তারা শুধু জেলার নয় বরিশাল বিভাগের সফল ও মডেল লিচুচাষী হিসাবে সুনাম অর্জন করেছে।
তারা তাঁদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের উৎপাদিত উন্নত জাতের লিচু ফল আজ নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাশ্ববর্তী জেলাসহ রাজধানীতে সরবরাহ করে অধিক মুনাফা পাচ্ছে।
কৃষি অফিসের একটি টিম নিয়মিত লিচুবাগান পরিদর্শন করে
চাষীদের সুখ দুঃখে পাশে অবস্থান করছে। প্রত্যেক ফলচাষীকে প্রশিক্ষণ ও স্প্রেরে মেশিন দেওয়া হয়েছে।
তারাবুনিয়ার ফলজ বাগান গুলি গুরে দেখা যায়,
একই জমিতে, একই বাগানে লিচু পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির আম ও বরই চাষ করছেন। বরই ইতিপূর্বেই শেষ এখন লিচু শেষ হতেই পাকবে আম। সর্বশেষ মালটা। বাগানে সবসময়ই একটা না একটা ফল থাকেই। এ বছর আম গাছেও প্রচুর আম ধরেছে চাষিরা আম নিয়েও খুব আশাবাদী। ফলজ বাগানের চাষকে লাভজনক চাষ মনে করছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার
কৃষকরা তাই দিনদিন তারা
ফলজবাগান চাষে
আগ্রহী হচ্ছে।