এন. এম হামিদী বাবু নীলফামারীঃ নীলফামারী জেলার ৬টি উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে কোরবানির ঈদের শেষ মূহুর্তে জমে উঠেছে পশু বেচাকেনা।
জেলার ছোট-বড় প্রায় সব হাটেই এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে এ ব্যস্ততার মাঝেই উঠেছে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ। নির্ধারিত হারের বাইরে গরু, ছাগল ও অন্যান্য পশুর ওপর অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন খামারি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে ঢেলাপীর হাট, বসুনিয়া হাট, নীলফামারী হাট, মীরগঞ্জ হাট, জলঢাকা হাট, কৈমারী হাট, আমবাড়ী হাট, ডাঙ্গার হাট, ডিমলা হাট, চাপানি হাট এবং টেঙ্গনমারী হাটের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাটে ক্রেতার রশিদের টাকা বেশি নেয়ার পরও আবার বিক্রেতার নিকট আলাদা করে টোল নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
খামারিরা বলছেন, সারা বছর গরু লালন-পালন করে ঈদের সময় কিছু লাভের আশায় হাটে আসেন তারা। কিন্তু অতিরিক্ত টোলের কারণে সেই লাভের বড় অংশ চলে যাচ্ছে ইজারাদার ও টোল আদায়কারীদের হাতে। অনেকেই দাবি করছেন, সরকারি নির্ধারিত তালিকা প্রকাশ্যে ছাটানো থাকলেও বাস্তবে তার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে।
সৈয়দপুরের ঢেলাপীর হাটে গরু বিক্রি করতে আসা হাসেম আলী নামের খামারি জানান, “একটি মাঝারি গরুর জন্য নির্ধারিত টোলের বাইরে অতিরিক্ত কয়েকশ টাকা দিতে হয়েছে। প্রতিবাদ করলে নানা অজুহাত দেখানো হয়।”একই অভিযোগ পাওয়া গেছে ডোমারের বসুনিয়া হাটেও। গরু ব্যবসায়ী মনজুরুল, ভুবন ও মজিবুল জানান, হাটে জায়গা দখল, প্রবেশ ফি এবং বিক্রির পর আলাদা খরচের নামে বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন।
জলঢাকার মীরগঞ্জ ও টেঙ্গনমারী হাটেও অতিরিক্ত টোল আদায় নিয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো না হলে ঈদের শেষ মুহূর্তে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এদিকে সচেতন মহল বলছে, ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাটে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য হয়। তাই টোল আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সরকারি নির্ধারিত হারের তালিকা দৃশ্যমান স্থানে ছাটিয়ে রাখা এবং অভিযোগ গ্রহণে মনিটরিং টিম গঠনের দাবিও জানিয়েছেন তারা। এদিকে জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে প্রতিটি হাটে দুইটি করে পশুর মেডিকেল টিম থাকার নির্দেশনার কথা থাকলেও বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে তা চোখে পড়েনি। নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।