খুলনা ব্যুরো : খুলনায় সাংবাদিক পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে অভিযুক্ত কথিত সাংবাদিক আলমগীর কবিরকে গণধোলাই দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাংবাদিক মহলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পেশাদার সাংবাদিকরা বলছেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশাকে ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আলমগীর কবির সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অনিয়মের খবর প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও নারী সংক্রান্ত নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও দীর্ঘদিনের।অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ৫ জুলাই খুলনার খালিশপুর থানার মজগুনী আবাসিক এলাকার ২২ নম্বর রোডের বাসিন্দা নাসরিন আক্তারের সঙ্গে তিন লাখ টাকা কাবিনে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আলমগীর কবির। বিয়ের পর নাসরিনের বোনের বাসায় ওঠেন তিনি এবং সেখানে তার আগের সংসারের সন্তানসহ প্রায় ১৮ দিন অবস্থান করেন। পরে নতুন বাসা খোঁজার কথা বলে নাসরিনকে রেখে তিনি চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি বলে অভিযোগ পরিবারের।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, যাওয়ার সময় আলমগীর কবির নগদ এক লাখ টাকা, প্রায় ১০ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং ৮ আনা ওজনের একটি আংটি নিয়ে যান। এরপর থেকে নাসরিনের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি। একাধিকবার ফোন করলেও ফোন রিসিভ করেননি। পরে নাসরিনের বড় বোন নারগিস আক্তার যোগাযোগ করলে উল্টো পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।নারগিস আক্তার আরও অভিযোগ করেন, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন আলমগীর কবির। পরে প্রতারিত ব্যক্তিরা টাকা ফেরতের জন্য তাদের পরিবারের কাছে চাপ সৃষ্টি করলে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করে।গত ২৩ মে শনিবার দুপুরে খুলনা রিপোর্টার্স ক্লাবে আলমগীর কবিরকে দেখতে পেয়ে নাসরিন আক্তার তাকে হাতেনাতে আটক করেন”এসময় ঐ নারী জরুরীসেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে খুলনা সদর থানা থেকে এএসআই সাইদ সহ দুজন কনস্টেবল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ এবং উপস্থিত লোকজনের সামনে নাসরিনকে নিজের স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেন আলমগীর। এ সময় এএসআই সাইদ বিষয়টি পারিবারিক ভাবে মিমাংসা করার কথা বলে চল যান। পরে আলমগীর এক বছরের খোরপোশ বাবদ নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন নাসরিনকে দেন বলেও জানা যায়। একইসঙ্গে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত দেওয়ার জন্য এক মাস সময় চেয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা করেন, যা বর্তমানে তার স্ত্রী নাসরিন আক্তারের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।পরে পুলিশ চলে গেলে পূর্বের চাঁদাবাজির অভিযোগে ক্ষুব্ধ কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয় জনতা আলমগীর কবিরের ওপর চড়াও হন। এসময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ বিষয়ে নাসরিন আক্তার বলেন, “আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যদি আমার বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান না হয়, তাহলে আমি আইনের আশ্রয় নেব এবং নারী নির্যাতন আইনে মামলা করব।”অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে আলমগীর কবির কিছু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।সচেতন মহলের দাবি, সাংবাদিকতার মতো দায়িত্বশীল পেশাকে ব্যবহার করে কেউ যেন প্রতারণা, চাঁদাবাজি বা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
চাঁদাবাজি ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে কথিত সাংবাদিককে গণধোলাই, মুচলেকা দিয়ে রক্ষা
প্রকাশিতঃ মে ৩১, ২০২৬, ০৮:১৪