মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ থেকে : আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও সিরাজগঞ্জে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা জমে উঠেছে। দোয়া ও শুভেচ্ছার পোস্টার, ব্যানার, ফোস্টুন ও প্যানায় ছেয়ে গেছে পাড়া মহল্লাসহ পুরো শহর। প্রার্থীরা সভা সমাবেশ করে নিজেদের মেয়র হিসেবে যোগ্য দাবী করে দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। সেগুলো বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ পোস্ট করছেন নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই প্রচার প্রচারনায় বিএনপির সাথে গোপনে আঁতাত করে কয়েকজন নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নিজেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে অভিনব কৌশলে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন, আওয়ামী লীগ নেতা বালু সাত্তার নামে পরিচিত হাজী আব্দুস সাত্তার।
সবার সাথে তাল মিলিয়ে পতিত আওয়ামী দোসর, পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা কল্যান পরিষদ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি বালু সাত্তার নামে পরিচিত হাজী আব্দুস সাত্তার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অভিনব কৌশলে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক প্রচার প্রচারনা চালিয়ে নিজেকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করছেন। নিজের অপকর্ম লুকিয়ে রাখতে আর জনপ্রিয়তা অর্জনে নিজ অর্থে পৌর এলাকায় লোক দেখানো পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ, বৃক্ষ রোপণ, ছোট ছোট উন্নয়নসহ সামাজিক, মানবিক কাজ ও গরীব দুঃখিদের দান খায়রাত করে সেগুলো পোস্ট করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের বিভিন্ন কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করছেন। আওয়ামী দোসরের হঠাৎ অতি উৎসাহ ও উদ্দীপনায় পৌরবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পতিত আওয়ামী লীগ নেতা মেয়র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে আলোচনা – সমালোচনার ঝড় বইছে। চলছে নানা গুঞ্জন। আসলে পৌর নাগরিকদের ধোঁকা দিচ্ছেন না তো !
বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা বলেন, আব্দুস সাত্তার একজন অশিক্ষিত শ্রমিক থেকে যমুনা নদীর বালু কারবারি করে ভাগ্য ক্রমে কোটিপতি হয়েছে। তার অতিত ইতিহাস মোটেও ভালো নয়। ৫ আগস্টের ঘটনায় কিছুদিন পালিয়ে থেকে হঠাৎ করে বিএনপির সাথে গোপনে আঁতাত করে মানবতাবাদী, দামবীর ও সমাজ সেবামূলক কার্যক্রমে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে যমুনা নদীর বালু কারবারিতে একক আধিপত্য বিস্তার করে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছেন দল পরিবর্তনকারী সুবিধাবাদী সাত্তার। যমুনার বালু কারবার কেন্দ্রিক আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে আনসব, নাসির ও টিক্কা হত্যার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে, টাকার বিনিময়ে এসব ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। তার আধিপত্যে মহালের বাহিরে থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন করে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়ে সেই টাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। অপরদিকে, নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলনের কারণে প্রতি বছর নদী ভাঙ্গন ব্যাপক আকার ধারণ করায় নদী পাড়ের হাজার হাজার মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে। তারা আরও বলেন, একজন অশিক্ষিত, দাঙ্গাবাজ, খুনি, বালু দস্যু ও ভুমি দস্যু পৌর মেয়র হবে, এমন স্বপ্ন দেখা পুরাই বোকামি। পৌর নাগরিকরা এতো বোকা নয়।
হাজী আব্দুস সাত্তার বলেন, মানুষ পরিবর্তনশীল। আল্লাহ তায়ালা যদি আমার কপালে মেয়র পদটি লিখে রাখেন তাহলে পৃথিবীর কোনো শক্তি ঠেকাতে পারবে না। আমি মানুষের খেতমতে খাদেম হয়ে থাকতে চাই। জনগণের দোয়া ও ভালবাসা আর আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা যদি থাকে তাহলেই হবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেয়র প্রার্থী সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও দলের একাধিক ব্যক্তি মেয়র প্রার্থী হিসেবে দোয়া ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন ভাবে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের সকল সিদ্ধান্তসহ বিগত সময় ধরে সার্বক্ষণ রাজপথে থেকে হামলা মামলা জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তাছাড়া আমি বিগত সময়ে মেয়রে নির্বাচন করেছি। একারণে, আমি দলের কাছে আশাবাদী। তবে, দল ও দলের হাই কমান্ড যাকে দেবেন আমরা বিএনপির সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার পক্ষে কাজ করব।
আওয়ামী লীগ নেতা মেয়র প্রার্থী গুঞ্জনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ, পাঁচ মিনিটের জন্য যে ব্যক্তি আওয়ামী ফ্যাসিষ্টের সাথে সম্পৃক্ত ছিল, তাকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। অতএব সিরাজগঞ্জবাসী ফ্যাসিস্টকে কখনও কোনো নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে দেবে না।
কতিপ বিএনপির নেতাকর্মী আওয়ামী দোসরের সাথে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, সাময়িক কিছু সুযোগ সুবিধার জন্য তার সাথে যোগাযোগ থাকতে পারে। তবে, বিএনপির কেউই বা জনগণ কোনো আওয়ামী দোসরকে নির্বাচন করতে দেবে না।
আওয়ামী দোসর ছাড়াও মেয়র প্রার্থী হিসেবে আরও যারা প্রচার প্রচারনাসহ গুঞ্জন চলছে তারা হলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, যুগ্ন সম্পাদক নুর কায়েম সবুজ, যুগ্ম সম্পাদক মুন্সি জায়েদ আলম, নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালেের নির্বাহী পরিচালক বিএনপি নেতা ফয়সাল হাসান মাহমুদ, জামায়াতে ইসলামী থেকে মাওলানা মোস্তফা মাহমুদ, নুরুল ইসলাম রইসী প্রমুখ। সবাই নিজ নিজ দলের হাই কমান্ডের সাথে নিয়মিত যোগাযোগসহ দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন।