মাগুরায় পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পশু প্রস্তুত, জমতে শুরু করেছে পশুর হাট

প্রকাশিতঃ মে ২০, ২০২৬, ০৬:৩৫

মাগুরা প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আযহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকী তাই মাগুরার গরুর খামারিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলার বিভিন্ন খামারে চলছে গবাদিপশু পরিচর্যা ও বাজারজাতের শেষ প্রস্তুতি। লাভের আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তারা। অন্যদিকে জমতে শুরু করেছে কোরবানীর পশুরহাট।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, খামারিরা কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ গরুকে গোসল করাচ্ছেন, কেউ খাবার দিচ্ছেন আবার কেউ খাবার প্রস্তুত করছেন। সারা বছর লালন-পালন করা পশুগুলোকে ঈদ উপলক্ষে বিক্রির আশায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। অনেকেই দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজা করছেন। এবার মাগুরাতে ৭৬ হাজার ৯ শত ৭৪ টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। জেলাতে গরু কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৬২ হাজার ৫ শত ৮টি। চাহিদার তুলনায় ১৪ হাজার পশু অতিরিক্ত থাকায় দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের কথা জানান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

মাগুরা সদরের উপজেলার ছয়চার গ্রামে খামারি মো: খায়রুজ্জামান জানান, গো- খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় খরচও অনেক বেড়েছে তাই গরুর দামটাও একটু বেশী বিক্রি করতে না পারলে খামারীদের ক্ষতি হবে।
সদরের পুখরিয়ার গ্রামের খামারী মামুন জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে পশু আমদানি না হলে ভালো দামের পাশাপাশি খামারিরা লাভবান হবে।
আরেক খামারি শাহরিয়ার সিজান বলছেন, আমরা সম্পূর্ণ দেশিয় খাবার খাইয়ে এই গরুগুলো বড়ো করেছি । কোন প্রকার রাসায়নিক বা ইনজেকশনের সহোযোগিতা নেইনি, প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শে আমরা খামার পরিচালনা করেছি।

অপরদিকে কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে শুরু করেছে পশুরহাট। আসন্ন ঈদ-উল-আজহাকে কেন্দ্র করে পশুর হাট গুলোতে ভাল বেচা কেনা হবে এবং ভালো দাম পাবে এমন প্রতাশা বিক্রেতাদের। মাগুরার রামনগর, কাটাখলির, ইটখোলা গরুর হাট ঘুরে দেখা যায় ছোট বড় মাঝারি বিভিন্ন রকমের গরু উঠেছে এ হাটে। তবে গরুর যোগান হাটে বাড়লেও ক্রেতা কম। এবার বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিহির কান্তি বিশ্বাস জানান, এবার জেলায় কোরবানির চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। খামারিদের পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা দেওয় হয়েছে নিয়মিত। নিরাপদ ও প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে উদ্বুদ্ধ করেছি। হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতা সুষ্ঠ ভাবে বেচা-কেনা করতে পারে সে ব্যপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরজার করা হয়েছে।

এবারের ঈদে পশুর ন্যায্য দাম পেলে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের সুফল মিলবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন জেলার খামারি ও গরুপালনকারী সাধারণ কৃষকরা