মোঃ মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ সদর এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব প্রাপ্ত এসিল্যান্ড কোন সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ই-নামজারী জমা খারিজ ঢালাওভাবে নামঞ্জুর করছেন। খবর পেয়ে ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সদরের এসিল্যান্ড অফিসে গেলে প্রায় শতাধিক উপস্থিত সেবাগ্রহীতার সাক্ষাৎ মেলে। দুপুর গড়িয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সেবাগ্রহীতাদেরকে এসিল্যান্ড অফিস করিডোরে অবস্থান করতে দেখা যায়। সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে এসিল্যান্ড অফিস করিডোরে সাংবাদিকদের সাথে কথাবার্তা হয়েছে। সেবা বঞ্চিত কেউ কেউ বলেছেন তারা ভূমি অফিসে এসেছেন মিছ কেইছের শুনানীর জন্য। কেউ বা এসেছেন ই-নামজারী জমা খারিজের অনুমোদনের জন্য। উপস্থিত অধিকাংশ সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ কোন সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তাদের ই-নামজারী জমা খারিজ কেন নামঞ্জুর করা হয়েছে তা জানার জন্য।
উপস্থিত লোকদের মধ্যে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের পুত্র মোঃ খায়রুল ইসলাম জানান, তিনি যথাযথ নিয়ম মেনে একটি ই-নামজারী খারিজের আবেদন করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস যথারীতি প্রস্তাব দিয়েছে এবং পরবর্তীতে সদর এসিল্যান্ড অফিসে শুনানীও অনুষ্ঠিত হয়েছে। অথচ কোন কারণ ছাড়াই তার ই-নামজারী আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে। বাতিলকৃত সেই ই-নামজারী আবেদনের বিন্নগাঁও মৌজার কেইছ নং- ৯৮১। কোন ছাড়াই একইভাবে বাতিল করা হয়েছে আলমপুর মৌজাস্থ মোঃ রিপন মিয়ার ১৩৫ নং কেইছ নম্বরের আবেদনটি, লতিবপুর মৌজার খোকন মিয়ার ১২৬৭ নং কেইছ নম্বরের আবেদনটি এবং শেওড়া মৌজাস্থ বিল্লাল হোসেনের ১২৩৪ নং কেইছ নম্বরের আবেদনসহ প্রায় ২ শতাধিক ই-নামজারী জমা খারিজের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। সেবা বঞ্চিতদের অভিযোগ “প্রয়োজনীয় কাগজপত্র” না থাকার অজুহাতে আবেদন নাকি বাতিল করা হয়েছে। অথচ সকল ভূক্তভোগীদের অভিযোগ প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র আবেদনের সঙ্গে জমা দেয়া আছে।
উল্লেখ্য অফিসের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুস সামা ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তিনি সদর এসিল্যান্ড অফিসে যোগদান করেন। এরপর দীর্ঘ ৬ মাস যাবত তিনি প্রশিক্ষণের জন্য অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ। নাজমুস সামা চলতি মাসে ফের সদর এসিল্যান্ড অফিসে যোগদান করেন। তার বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ রয়েছে কামরুল হাসান মারুফ দায়িত্বপালনকালে যেসব ই-নামজারী জমা খারিজ তার আইডিতে ছিল সেইসব ই-নামজারী জমা খারিজ কোন কারণ ছাড়াই তিনি বাতিল করেছেন।
এ ব্যাপারে সকালে ও বিকেলে এসিল্যান্ড অফিসে গেলেও এসিল্যান্ডের সাক্ষাৎ মেলেনি। অবশেষে বিকেলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে ভূক্তভোগীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
