শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ কাপ্তাইয়ে ধনিয়া চাষে শ্রম ও খরচ বেশি, মিলছে না কাঙ্ক্ষিত লাভ

কাপ্তাইয়ে ধনিয়া চাষে শ্রম ও খরচ বেশি, মিলছে না কাঙ্ক্ষিত লাভ

নুর মোহাম্মদ বাবু, ​কাপ্তাই প্রতিনিধি: পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় ধনিয়া চাষ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, সার-কীটনাশক প্রয়োগ এবং নিয়মিত পরিচর্যা—সব মিলিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি দিতে হলেও কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখছেন না তারা। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন এই অঞ্চলের চাষিরা।

​কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধনিয়া চাষে প্রতি মৌসুমে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে সেচ ও ওষুধ ব্যবহারে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। সামান্য অবহেলায় রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে ফলন বিপর্যয় ঘটার ঝুঁকি থাকে। তাই বাড়তি খরচ বহন করে দিনরাত জমিতে পরিশ্রম করতে হয় তাদের।

​একজন চাষি জানান, একটি জমি থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কেজি ধনিয়া সংগ্রহ করা যায়। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ধনিয়া গড়ে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এতে দৈনিক আয় হয় ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা। তবে এই আয় থেকে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরির খরচ বাদ দিলে লাভের অঙ্ক নেমে আসে তলানিতে।

​এদিকে, কৃষকরা যখন উপযুক্ত দাম না পেয়ে ক্ষুব্ধ, তখন মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেট ভরছে। খুচরা বাজারে এই ধনিয়াই প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, সকল ঝুঁকি ও শ্রম তাদের হলেও সিংহভাগ মুনাফা নিয়ে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা।

​ক্ষতি পুষিয়ে ধনিয়া চাষকে লাভজনক করতে কৃষকরা কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন:

​ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ: স্থানীয় বাজারে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যূনতম দর নিশ্চিত করা।
​সরাসরি বাজারজাতকরণ: মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া কৃষকদের সরাসরি বাজারে পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি।

উপকরণে সাশ্রয়: সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা।
​কৃষকদের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিলে কাপ্তাইয়ে ধনিয়া চাষে নতুন গতি আসবে এবং স্থানীয় চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা