লিটন পাঠান, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো দ্বিতল ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সেখানেই চলছে জরুরি ও ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, ছাদ ও দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়া এবং রড বেরিয়ে আসায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ নারী ও পুরুষ ওয়ার্ড এখনো পুরোনো ভবনেই পরিচালিত হচ্ছে। ছাদের বিভিন্ন অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে আছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে রোগীদের শয্যা ভিজে যায়। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে এক কর্মচারীকে হেলমেট পরে দায়িত্ব পালন করতেও দেখা গেছে। হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঝুঁকি জেনেও রোগীদের সেবা দিতে হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এক নার্স বলেন, রাতের ডিউটির সময় সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয় ছাদের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ।
রোগী ও স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে। মাধবপুর উপজেলার বাসিন্দা মহন মিয়া নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, রাতে পলেস্তারা খসে পড়ার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। আলেয়া বেগম নামে আরেক স্বজন জানান, চিকিৎসার চেয়ে দুর্ঘটনার ভয়ই বেশি কাজ করে। একসময় ৩১ শয্যার এই হাসপাতালটি বর্তমানে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও অবকাঠামোগত সংকট ও জনবল ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে পুরোনো ভবনের নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে ৩১টি এবং নতুন ভবনের শিশু ওয়ার্ডে ১৯টি শয্যা চালু রয়েছে। নতুন ভবনে চিকিৎসকদের কক্ষ, টিকাদান কেন্দ্র ও অপারেশন থিয়েটার থাকলেও পুরো চিকিৎসাসেবা সেখানে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৪৫টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। ৩০ জন নার্সের বিপরীতে রয়েছেন ২৬ জন। ১৫ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর স্থলে আছেন মাত্র ৫ জন। এর মধ্যে একজনকে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধার কারণে মাধবপুর উপজেলার পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর ও বিজয়নগর উপজেলার মানুষও এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের প্রায় ২৬ কিলোমিটার অংশ এই উপজেলার মধ্য দিয়ে যাওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চাপও নিয়মিত থাকে। পাশাপাশি শিল্পকারখানা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানে একটি ট্রমা সেন্টার স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমরুল হাসান বলেন, পুরোনো ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। আমরা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি। দ্রুত সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও জানান, বাজেট সংকটের কারণে এখনো মেরামতকাজ শুরু করা যায়নি। তবে জুন মাসের পর সংস্কারকাজ শুরু হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বর্তমানে এক্স-রে বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোনো ভবনেই পরিচালিত হচ্ছে।