শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ সৌদির রাজধানী রিয়াদের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৭ জনের মরদেহ নওগাঁর আত্রাই পৌঁছেছে

সৌদির রাজধানী রিয়াদের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৭ জনের মরদেহ নওগাঁর আত্রাই পৌঁছেছে

নওগাঁ প্রতিনিধি : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৭ জনের মরদেহ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নওগাঁর আত্রাই উপজেলা সদরে পৌঁছেছে।

কফিনগুলো রাখা হয়েছে আত্রাই থানা হেফাজতে। সকাল ১০টায় একসঙ্গে জানাজা শেষে গ্রামে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রিয়জনের নিথর দেহ শেষবারের মতো দেখতে ও কফিন ছুঁয়ে মনকে সান্ত্বনা দিতে অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা।

এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহের কফিনগুলো আত্রাই উপজেলায় নিয়ে আসা হয়।

আত্রাইয়ের সাতজন হলেন, উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দিনের ছেলে ফরিদ উদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমিজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল।

এ ছাড়া একই ফ্লাইটে নাটোরের নলডাঙ্গা থানার মহিষডাঙা গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা থানার মরুগ্রাম গ্রামের কলিমুদ্দিন মাঝির ছেলে শ্যামল উদ্দিন মাঝির মরদেহ দেশে আসে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিরুজ্জামান বলেন, শুক্রবার সকাল ১০টায় আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠে নিহত সাতজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একসঙ্গে জানাজার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানাজা শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নিহত প্রবাসীর প্রত্যেক পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গত ৯ আগস্ট রিয়াদের শিফা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে প্রাণ হারান ১৬ বাংলাদেশি। আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম দফায় ৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে ডিএনএ পরীক্ষা শেষ না হওয়ায় বাকি সাতজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথম দিকে আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বর্তমানে উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তাদের মধ্যে যাদের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে, তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। বাকি মরদেহগুলোও শনাক্ত ও দেশে ফেরাতে প্রশাসনিকভাবে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বাকি সাতজনের ডিএনএ ম্যাচিং সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের মরদেহও দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা