শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ খুলে দেওয়া হলো আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেন

খুলে দেওয়া হলো আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেন

আশুলিয়া প্রতিনিধি : ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৩ দশমিক ৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দুটি সার্ভিস সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতু দুটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় আশুলিয়া, সাভার ও ঢাকার মধ্যে যান চলাচলে সৃষ্ট চাপ ও জনদুর্ভোগ কমাতে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে সেতু দুটি নির্মাণ করা হয়েছে।

সেতু দুটি সম্পূর্ণ টোলমুক্ত। সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীরাও এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। তবে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সেতুতে নির্ধারিত উচ্চতার সীমা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সীমার বেশি উচ্চতার কোনো যানবাহন সেতুতে চলাচল করতে পারবে না। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ইপিজেড থেকে আশুলিয়া হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে কাওলায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে।

এর ফলে বিমানবন্দর থেকে কুড়িল, বনানী,তেজগাঁও হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নিরবচ্ছিন্ন উড়াল সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে। এদিকে সাভার ও বাইপাইল এলাকার যানজট নিরসনে বাইপাইল মোড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে মাল্টি-লেভেল ইন্টারচেঞ্জ। পাশাপাশি বিমানবন্দরে প্রবেশের জন্য বিশেষ র‍্যাম্প এবং মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১ স্টেশনে যাতায়াতের জন্য পৃথক সংযোগও নির্মাণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি ৬৬ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৬ দশমিক ০২ শতাংশ। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি ২০৩০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ০ দশমিক ২১৭ শতাংশ বৃদ্ধিতে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সার্ভিস সেতু দুটি চালু হওয়ায় নির্মাণকাজ চলাকালে আশুলিয়া-সাভার-ঢাকা রুটে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন এই পথে চলাচলকারী হাজারো মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তিও অনেকটাই কমে আসবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা