শনিবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ শিবচরে জেলে কার্ড বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

শিবচরে জেলে কার্ড বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

শাখাওয়াত হোসেন মোল্লা, শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি : ‎মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত চরজানাজাত ইউনিয়নে সরকারি জেলে কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে পদ্মায় মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করা অনেক প্রকৃত জেলে সরকারি তালিকা থেকে বঞ্চিত অথচ জেলে না হয়েও কাড পেয়েছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কৌশলে হস্তান্তর করেছেন সরকারি কার্ড। এমনকি এক জীবিত জেলেকে সরকারি নথিতে ‘মৃত’ বানিয়ে তার সহায়তার চাল বন্ধ করে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছে।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা দুর্যোগকালীন এই কার্ড ও চালই তাদের টিকে থাকার একমাত্র সম্বল। তবে চরজানাজাত ইউনিয়নে প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে এমন অনেককে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যারা পেশায় জেলে নন। বহু জেলে একাধিকবার ছবি ও নাগরিক সনদ জমা দিয়েও তালিকার মুখ দেখেননি।

‎চরজানাজাতের বাসীন্দা জাহাঙ্গীর নামের এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে জানান, চার-পাঁচবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও তিনি কার্ড পাননি।

‎শাজাহান নামের এক তরুণ জেলে জানান, তার পেশাদার জেলে বাবা জীবন ভর জেলের পেশায় আছেন অথচ কার্ড পাননি; বাবার মৃত্যুর পর একই পেশায় থাকলেও তিনিও সরকারি সহায়তার বাইরে রয়ে গেছেন। ২০ বছর ধরে মাছ ধরে সংসার চালানো এক প্রবীণ জেলেও প্রশ্ন তোলেন জেলে কার্ড পাওয়ার প্রকৃত মানদণ্ড নিয়ে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় ঘটে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলের ক্ষেত্রে। আগে তিনি নিয়মিত সরকারি সহায়তা পেলেও গত দুই বছর ধরে হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি নথিপত্রে তাকে ‘মৃত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে! বর্তমানে জীবিত ও পেশায় সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন তথ্য নথিবদ্ধ হলো, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভের।

‎বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সমাজসেবক নুর ইসলাম বলেন, পদ্মায় মাছ শিকার করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে, সরকারি সহায়তার প্রথম অধিকার তাদেরই। অনতিবিলম্বে জেলে তালিকা পুনঃযাচাই করে ভুয়া কার্ডধারীদের বাদ দেওয়া এবং বঞ্চিত প্রকৃত জেলেদের সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন।

‎অভিযোগ স্বীকার করে শিবচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার জানান, অপেশাদার বা অযোগ্য ব্যক্তিদের জেলে কার্ডের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে অযোগ্যদের নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

‎ইউএনও এএইচএম ইবনে মিজান জানান, প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছেন এমন অভিযোগ আমরাও পেয়েছি। ইতোমধ্যে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা