বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে মো.কেফাইতুল ভুঁইয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে শত বছরের পুরোনো চলাচলের রাস্তা ও সরকারি গোপাট বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এতে প্রায় নয় মাস ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন দুটি পরিবার। রাস্তা বন্ধ থাকায় হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ি থেকে বের হওয়ার চলাচলের রাস্তায় গাছের ডালপালা ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না ওই দুই পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের বেকীনগর এলাকায়।
ভুক্তভোগী রবীন্দ্র সূত্রধর অভিযোগ করে বলেন, তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসা রাস্তা ও সরকারি গোপাট প্রতিবেশী রাখাল সূত্রধর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রায় নয় মাস ধরে এ অবস্থার কারণে তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
এ ঘটনায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিজয়নগর থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রবীন্দ্র সূত্রধর। লিখিত অভিযোগে রাস্তা দিয়ে চলাচলে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি গালাগাল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের মাধ্যমেও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে এসব উদ্যোগের পরও তারা রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের সুযোগ ফিরে পাননি।
এ নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। আদালতের নির্দেশে ভূমি বিভাগের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রাখাল সূত্রধরের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এ সময় তিনি উল্টো সাংবাদিকদের মুঠোফোনে একাধিকবার ভিডিও ধারণ করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তা বন্ধের বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি সালিশের সিদ্ধান্ত মানেননি। এ কারণে স্থানীয় পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান তারা।
চান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে গ্রাম আদালতে আলোচনা হয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
